বুধবার   ২১ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৭ ১৪৩২   ০২ শা'বান ১৪৪৭

বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের স্বজনদের ‘সরাচ্ছে’ ভারত

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৭:৫৮ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার

বাংলাদেশের পাঁচটি মিশন থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। কূটনীতির ভাষায় বাংলাদেশকে একটি ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিবেশী দেশটি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও তা ঘোষণা করা হয়নি। ভারতের সংবাদমাধ্যমে হিন্দুস্তান টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর দিয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকায় দেশটির হাইকমিশনসহ বাংলাদেশে থাকা পাঁচটি মিশনই ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং হবে। তবে পাঁচটি কূটনৈতিক মিশনই ‘পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম’ চালিয়ে যাবে বলে বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে গতকাল মঙ্গলবার খবর প্রকাশ করে হিন্দুস্তান টাইমস।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর বরাতে একই খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়াও। উভয় প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দেওয়া হলেও কারও নাম বলা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারও বক্তব্যও তুলে ধরা হয়নি।

বাংলাদেশে থাকা ভারতের পাঁচ মিশন হল- ঢাকার হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে অবস্থিত চারটি সহকারী হাইকমিশন।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি। যুদ্ধের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকা পাকিস্তানে বর্তমানে ‘নো চিলড্রেন’ পোস্টিং রাখা হয়েছে, যেখানে শুধু স্বামী বা স্ত্রী কর্মকর্তাদের সঙ্গে থাকার অনুমতি পাচ্ছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ ও জনবিক্ষোভ নিয়ে টানাপড়েন চলছে। বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে আসার পর থেকে কূটনৈতিক বার্তা বিনিময় চলছে। পাল্টাপাল্টি চিঠি চালাচালির মধ্যে একই দিনে দুই দেশের কূটনীতিককে তলবের মতো বিরল ঘটনাও ঘটেছে।

ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ। দিল্লিতে থেকে বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী উসকানি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন করা হচ্ছে বলে একের পর এক অভিযোগ করছে ভারত। এ নিয়ে ভারতে বাংলাদেশ মিশনের সামনে বিক্ষোভ, ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে। বাংলাদেশেও ভারতের মিশনগুলোর সামনে একাধিকবার বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

সবশেষ আইপিএল থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া নিয়ে সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। তবে এরই মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের শীর্ষ নেতাদের সফর ও শোকবার্তা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে হঠাৎ উষ্ণ করার চেষ্টার বিষয়টিও সামনে আসে।

এ অবস্থার মধ্যেই ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সপ্তাহ তিনেক আগে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশে থাকা সব মিশন থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারত নিয়েছে বলে সেখানকার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

গতকাল প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা এমন পদক্ষেপের কারণ হিসেবে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে থাকা কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকার কথা বলেছেন। বিশেষ করে ‘উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর হুমকির’ কারণের কথা তুলে ধরে সিদ্ধান্তটি কিছুদিন ধরেই প্রক্রিয়াধীন থাকার কথা বলেছেন তারা।

একজন কর্মকর্তা বলেন, 'সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা হাইকমিশন ও চারটি সহকারী হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের নির্ভরশীলদের ভারতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।'

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, এসব মিশনে কর্মরতের পরিবারের সদস্যরা কবে নাগাদ আবার বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। বাংলাদেশে কতজন কূটনীতিক রয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে সে বিষয়েও তারা বিস্তারিত জানাতে চাননি।