বুধবার   ১৪ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ৩০ ১৪৩২   ২৫ রজব ১৪৪৭

পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদির সামরিক জোটে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ!

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৪৪ এএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার

সম্প্রতি ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে তুরস্ক। চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরেও শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার মতো এক নতুন নিরাপত্তা জোট গঠনের রাস্তা খুলে দিতে পারে।

 

এর মধ্যে গত ৭ জানুয়ারি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানের মধ্যে বৈঠকে ঢাকার কাছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রিসহ সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইসলামাবাদ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন এবং অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠার মধ্যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দুই দেশের বিমানবাহিনীর প্রধানদের ওই আলোচনার কথা জানিয়েছে।

 

বৈঠকের পর পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে নিয়ে সম্ভাব্য যে সামরিক জোটের আলাচনা চলছে সেখানে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়েও গুঞ্জন শোনা গেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের টাইমস অব ইসলামাবাদ পত্রিকার এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই গুঞ্জন এখন জোরাল।

 

প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য এই সামরিক জোট গঠন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, আলোচনা এখন অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে এবং একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।

 

গত বছরের সেপ্টেম্বরে রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একটি ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়েছে, দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে উভয়ের বিরুদ্ধেই আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে।

 

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এই সম্প্রসারিত জোটটি যৌক্তিক, কারণ দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এমনকি আফ্রিকাতেও তুরস্কের স্বার্থ ক্রমশ সৌদি আরব ও পাকিস্তানের স্বার্থের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—যে দেশটির সঙ্গে এই তিন দেশেরই শক্তিশালী সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটোর প্রতি প্রতিশ্রুতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক এই চুক্তিকে নিরাপত্তা ও প্রতিরোধক্ষমতা জোরদার করার একটি উপায় হিসেবে দেখছে।’

 

এদিকে টাইমস অব ইসলামাবাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সম্ভাব্য জোটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে। ওই চুক্তির মূল ধারা অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশের ওপর হামলাকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে, যা অনেকটা ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির আদলে তৈরি।

 

পাকিস্তান যেহেতু একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র ও তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী, তাই সৌদি আরবের আর্থিক শক্তির সঙ্গে এই দুই সামরিক শক্তির সমন্বয় একটি অপরাজেয় ত্রিভুজ গঠন করতে পারে। বাংলাদেশ এই জোটের অংশ হলে তা মূলত প্রশিক্ষণ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও সামরিক সরঞ্জামের যৌথ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

 

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে পাকিস্তানের সৌদি-মডেলের প্রতিরক্ষা চুক্তির আদলে একটি খসড়া তৈরি করতে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে। গত এক বছরে পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বের ঢাকা সফরের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের পাকিস্তান সফরকালে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

পাকিস্তান ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জন্য সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধুমাত্র ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ সামরিক মহড়া পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

 

তবে এই জোটে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি নির্ভর করছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ওপর। যদিও বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে খসড়া চুক্তির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে, তবে এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেবে নির্বাচিত সংসদ।

 

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ এই চতুর্মুখী জোটে যোগ দিলে তা হবে মুসলিম বিশ্বের প্রধান দেশগুলোর মধ্যে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা সমন্বয়।