রোববার   ১১ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৭ ১৪৩২   ২২ রজব ১৪৪৭

ভেঙ্গে গেলো রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন

আজকাল রিপোর্ট -

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৫২ এএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার


     
 
ভেঙ্গে গেলো রুপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন। প্রবাসে দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করে আসছিল সংগঠনটি।সংগঠন প্রশ্নে সবার আন্তরিকতা ও ভালোবাসা থাকলেও নেতৃত্বের কোন্দলে তা ২ ভাগ হয়ে গেল। গঠিত হয়েছে ২টি কমিটি। একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাহাবুবুর রহমান ও হাসান মাহমুদ সোহেল। অপর অংশে রয়েছেন রাজু সাহা বিপ্লব ও সোহেল গাজী। 
নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন কোন্দল থাকলেও সংগঠনটি ঐক্যবদ্ধ ছিল। গেল নির্বাচনে আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন প্যানেল  নির্বাচনে হেরে গেলে তারা একটি আহবায়ক কমিটিও গঠন করেছিল। কিন্তু সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে সে আহবায়ক কমিটি এগুতে পারে নি। সংগঠনও ভাংগার হাত থেকে রক্ষা পায়। চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রাণপুরুষ হারুন ভূঁইয়া। তিনি সাবেক সভাপতি। একাধিকবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। এবারও তার নেতৃত্বেই নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। তিনি সমঝোতার ভিত্তিতে একটি কমিটি দেবার প্রাণপন চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছু সিনিয়র নেতাদের সংর্কীণতায় পেরে উঠেন নি। এরমধ্যে বিগত নির্বাচনগুলোতে একাধিকবার পরাজিত নেতারা রয়েছেন। সভাপতি পদপ্রার্থী মাহবুবুর রহমান ও আজহারুল ইসলামের অনমনীয় মনোভাবের কারনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। কমিটি গঠন নিয়ে হারুন ভূঁইয়ার দৃষ্টি আর্কষন করলে তিনি আজকালকে বরেন, নিরপেক্ষভাবে কমিটি দিয়েছিলাম।নবনির্বাচিত সাধারন সম্পাদক  হাসান মাহমুদ সোহেল তার পছন্দের সভাপতি চান। অথচ আমার প্রস্তাবিত কমিটিকে সবাই স্বাগত জানায়। একমাত্র ফকরুল ইসলাম মাসুম এর বিরোধিতা করেন। আমি এই সংগঠন ৩০ বছর আগে গঠন করেছিলাম। অর্থ ও জীবনের স্বর্ণময় সময়গুলো এই সংগঠনের জন্য দিয়েছি। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। নিরপেক্ষভাবে কমিটি দিয়েছিলাম। একাংশের পছন্দ হয়নি। আমি আর কি করতে পারে। অথচ সবার অনুরোধেই নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। 
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হারুন ভূঁইয়া ও তার কমিশন নতুন কমিটির ঘোষণা দেন। এতে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে রাজু সাহা ও হাসান মাহমুদ সোহেল। এতে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন বিদায়ী সভাপতি ফকরুল ইসলাম মাসুম, মাহবুবুর রহমান ও হাসান মাহমুদ সোহেল সহ কার্যকরিকমিটির সদস্যরা। হাসান মাহমুদ নবগঠিত কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। ফকরুল ইসলাম মাসুম, মাহবুবুর রহমান ও হাসান মাহমুদ সোহেলরা সংগঠনের কার্যকরি কমিটির বৈঠক ডেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হারুন ভূইয়াকে অব্যাহতি দেন। গঠন করেন নতুন নির্বাচন কমিশন। যার নেতৃত্বে ছিলেন আখতার হামিদ,রেজাউর রহমান রাজু ও মাকসুদুর রহমান সেলিম। এই নির্বাচন কমিশন চাঁদপুর ফাউন্শেনের নতুন কমিটি কমিটির ঘোষণা দেন। এতে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে মাহাবুবুর রহমান ও হাসান মাহমুদ সোহেল। অন্যদিকে হারুন ভূঁইয়া ঘোষিত কমিটি থেকে হাসান মাহমুদ সোহেল পদত্যাগ করায় সোহেল গাজীকে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে হারুন ভূঁইয়া নতুন কমিটিতে রাজু সাহা বিপ্লব ও সোহেল গাজী কে নির্বাচিত করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বিদায়ী সভাপতি ফকরুল ইসলাম মাসুম বলেন, আমরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন চেয়েছিলাম। কিন্তু সে পথে না গিয়ে বারবার পরাজিতরা নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে মনগড়া কমিটি দিয়েছে। তা চাঁদপুরবাসী প্রত্যখান করেছে। অধিকাংশ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, কার্যকরি কমিটি ও নবগঠিত নির্বাচন কমিশন আলোচনার ভিত্তিতে কমিটি দিয়েছি। সোমবার সংগঠনের যৌথ বৈঠকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হব্ েনবনির্বাচিত সভাপতি মাহবুবুর রহমান আজকালকে বলেন,এই সংঘঠনের যেকোন ক্রান্তিকালে হারুন ভূঁইয়া অতীতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন। এবার তিনি এক পক্ষের এজেন্ডা নিয়ে কাজ করেছেন। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন নি। তার অযৌাক্তিক সিদ্ধান্ত আমাদেও উপর চাপিয়ে দিচ্ছিলেন। আমরা তা প্রত্যাখান করেছি। 
ফকরুল ইসলাম মাসুম আজকালকে বলেন, ১ জন নেতা ৩ বার নির্বাচন করেও সভাপতি হতে পারেন নি। তাদেও মতো লোকদেও জন্যই সংগঠনটি ভেংেগে গেল। আমরা ৩৭ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছি। চাঁদপুরবাসীদের নিয়ে আবার সংগঠনকে সংগঠিত করে এগিয়ে যাবো ইনশাল্লাহ।
বিপ্লব ও গাজী অংশের অন্যতম নীিিতনির্ধারক ফারুক মজুমদার আজকালকে বলেন, সাইফুল ইসলাম ও মাহবুবুর রহমান কেউ কাউকে মানছিলেন না।আমি ও বাবুল চৌধুরী বারবার মধ্যস্ততার চেষ্টা করি। কিন্তু তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অধিকাংশ উপদেষ্টা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঘোষিত কমিটিকে স্বাগত জানালেও মাসুম ভাইরা তা মানেন নি। এটা দুঃখজনক। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাথে একমত ছিলেন উপদেষ্টা বাবুল চৌধুরী, আমি ফারুক মজুমদার,মামুন মিয়াজী,হারুন ভূঁইয়া ও মোস্তফা হোসেন মুকুল। দীর্ঘদিনের সংগঠননি ২ ভাগ হয়ে গেল।