যুক্তরাষ্ট্র কি সাম্রাজ্য বিস্তারের পুরোনো ধারা মনরো মতবাদে ফিরছে
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৪৫ এএম, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে মনরো মতবাদ অনুসারে খারাপ প্রতিবেশী প্রত্যাবর্তনের সংকেত দিয়েছিলেন। এর পেছনে ভূরাজনীতি কাজ করছে। ওয়াশিংটনের নজর ঘুরিয়ে দিয়েছে মূলত ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেলের মজুতের দিকে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তেলের দাম কমায় যেমনটা দেখা গিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন ঠিক সেভাবে জ্বালানি খরচ কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের পছন্দ মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাম ঘরানার সংবাদপ্রতিষ্ঠান কাউন্টারপাঞ্চ গতকাল রোববার এই নিবন্ধ প্রকাশ করে। এটি লিখেছেন ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-মিলওয়াকির রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি ও জননীতি বিভাগের অধ্যাপক জেফ্রি সোমারস।
নিবন্ধে বলা হয়, লাতিন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গত দুই দশক কিছুটা কম মনোযোগ পেয়েছে। ২০০৩ সালে ডিক চেনির ইরাক যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকা থেকে আংশিক নজর সরিয়ে নিয়েছিল। চেনির মনোযোগ ছিল ইরাক ও রাশিয়ার ওপর। ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানরা একমত ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ধরে রাখতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে তেলের বিপুল ভান্ডার ছিল। এর দখল নিতে গিয়ে তৎকালীন সেক্রেটারি অব স্টেট ম্যাডেলিন অলব্রাইট পাঁচ লাখ শিশুর মৃত্যুকে ‘যৌক্তিক’ বলেছিলেন। অন্যদিকে রাশিয়া ছিল প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডার। ১৯৯৭ সালে জেবিগনিউ ব্রজেজিনস্কি রাশিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
রাশিয়াকে ন্যাটো দিয়ে ঘিরে ফেলা এবং ইরাক অভিযানের ফলে লাভবান হয়েছিল মার্কিন পেনশনভোগী এবং লাতিন আমেরিকানরা। ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের সুপ্রতিবেশী নীতির পর একুশ শতকে লাতিন আমেরিকা প্রথমবারের মতো কিছুটা স্বায়ত্তশাসন ভোগ করেছিল। ভেনেজুয়েলায় হুগো শ্যাভেজ, ব্রাজিলে লুলা দা সিলভা, বলিভিয়ায় ইভো মোরালেস ও ইকুয়েডরে রাফায়েল কোরেয়ার মতো নেতারা নির্বাচিত হন।
মনরো মতবাদ মূলত সাম্রাজ্য বিস্তারের পুরোনো ধারারই অংশ। এই মতবাদে স্পষ্ট ছিল– যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকায় তার আধিপত্য বাড়াবে। এর পরবর্তী এক শতাব্দীতে কয়েক ডজন ছোট-বড় হস্তক্ষেপ ঘটে। ১৮৪৮ সালে মেক্সিকোর ৫৫ শতাংশ জমি দখল করা ছিল এর বড় উদাহরণ।
১৯১৫ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত হাইতি দখল করে রাখাও ছিল মনরো মতবাদের অংশ। যুদ্ধে ও তার প্রভাবে হাইতির প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। হাইতির সম্পদের চেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ছিল পানামা খালের প্রবেশপথে জার্মানিকে ঠেকিয়ে রাখা। পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বার্থও ছিল। হাইতির দখলদারিত্বের মূলে ছিল আজকের সিটি ব্যাংকের পূর্বসূরি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট রজার পি. ফার্নহামের স্বার্থ।
এফডিআর (রুজভেল্ট) হাইতি থেকে সেনা সরিয়ে এবং ‘সুপ্রতিবেশী নীতি’ ঘোষণা করেছিলেন। এফডিআরের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র আবার তা পুরোনো রূপে ফেরে, যা একুশ শতকের শুরু পর্যন্ত বজায় ছিল। আর এখন ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র বন্দি করল।
