জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা শহীদ হওয়া এলাকার ওসিদের নামে মামলা ক
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৩৭ এএম, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্র–জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) তালিকা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর পাশাপাশি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তালিকাও হচ্ছে। এই তালিকা করার পর তাঁদের নাম ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।
রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান ইস্যু পরবর্তী ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করে সভাপতি রিফাত রশিদ এসব কথা বলেন।
আরেকটি কর্মসূচি ঘোষণা করে রিফাত রশিদ বলেন, আমাদের দ্বিতীয় কর্মসূচি হলো ইমডেমনেটির যে অর্ডিন্যান্স, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিশ্চিত করতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে অবিলম্বে মতবিনিময় করে তাঁদের প্রেশার দিয়ে তা জারি করতে বাধ্য করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেই কাজ আজকে থেকে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কোনো প্রকার তালবাহানা নয়, আমরা অ্যাকশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়।
তাদের দাবিগুলো হলো- হবিগঞ্জের নেতা মাহদী হাসানকে শুধু জামিন নয়, নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে; জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
তাঁদের তৃতীয় দাবি হলো জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে তাঁদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মক্ষেত্রে তাঁদের হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করা; ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদগুলোতে পদায়ন করা।
সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার মাহদী হাসানের জামিন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হলে রিফাত রশিদ বলেন, মাহদীকে কিন্তু নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি, একটি মামলায় কেবল জামিন দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তাঁদের প্রথম দফা সম্পূর্ণভাবে পূরণ হয়নি। তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম, মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশাসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
