সোমবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২৫   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪৩২   ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ?

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:৫৭ এএম, ১ ডিসেম্বর ২০২৫ সোমবার

নিজের রাজনৈতিক কফিনে শেষ পেরেকটাই কি ঠুকে দিলেন ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ানিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন এক নাটকীয় মোড়। দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিচার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি পেতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের কাছে ক্ষমার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন।

 

এই আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছিল বৃহস্পতিবার এবং রবিবার তা প্রকাশ্যে আসে। নেতানিয়াহু এখনও পর্যন্ত সকল অভিযোগ (ঘুষ, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ) অস্বীকার করে এসেছেন। বারবার আদালতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার কথা বলেছেন। তাই এই ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন তার পূর্বের অবস্থানের একটি বড় পরিবর্তন।

 

নেতানিয়াহুর এই আবেদনটি মাত্র এক পাতার এবং সেখানে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেননি বা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তিনি লিখেছেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র বর্তমানে যে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং কূটনৈতিক সুযোগগুলির সম্মুখীন, তার মোকাবিলায় আমি বিভেদ দূর করতে, জাতীয় ঐক্য অর্জন করতে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলির উপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমার ক্ষমতার সবটুকু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ... এবং আমি সরকারের সকল শাখার কাছেও একই প্রত্যাশা করি।"ল

 

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হারজোগের কার্যালয় এই অনুরোধ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে যে তিনি অত্যন্ত যত্ন ও দায়িত্বের সাথে এটি বিবেচনা করবেন।

 

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে হারজোগের একারই ক্ষমা মঞ্জুর করার একমাত্র অধিকার রয়েছে।

তবে, নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপ ইসরায়েলি বিরোধী শিবিরে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ দ্রুত হারজোগের প্রতি অনুরোধ জানান, যেন এই আবেদনটি বর্তমান রূপে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

 

লাপিদ তার ভিডিও বার্তায় বলেন, দোষ স্বীকার, অনুশোচনা প্রকাশ এবং রাজনৈতিক জীবন থেকে অবিলম্বে সরে না গেলে আপনি নেতানিয়াহুকে ক্ষমা মঞ্জুর করতে পারেন না।

 

বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস দলের প্রধান ইয়ার গোলান সামাজিক মাধ্যম এক্সে বলেছেন, দোষী ব্যক্তিরাই কেবল ক্ষমা চায়। আট বছর ধরে বিচার চলার পর, যখন তার বিরুদ্ধে মামলাগুলি ভেঙে পড়েনি, তখন নেতানিয়াহু এখন ক্ষমা চাইছেন।

 

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক মিত্ররা তার পাশে দাঁড়িয়েছে। অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই আবেদনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

 

এর আগে, এই মাসের শুরুতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হারজোগকে চিঠি লিখে নেতানিয়াহুর জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। ট্রাম্প তার চিঠিতে নেতানিয়াহুকে শক্তিশালী এবং যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ক্ষমা মঞ্জুর করার আহ্বান জানান।

 

তবে, ইসরায়েলের জনগণের মনোভাব মিশ্র। ট্রাম্পের চিঠির পরে পরিচালিত চ্যানেলে-১২-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলি জনগণের ৪৮ শতাংশ বিনা শর্তে ক্ষমার বিরোধিতা করে, ৪৪ শতাংশ এর পক্ষে ছিল।

 

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, সাধারণত কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরই প্রেসিডেন্ট কর্তৃক ক্ষমা মঞ্জুর করা হয়। ইনস্টিটিউটের গবেষক ডানা ব্ল্যান্ডার লিখেছেন, বিচার চলাকালীন বা তার আগে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক ক্ষমা মঞ্জুর করার সম্ভাবনা আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থাকে বাইপাস করার ঝুঁকি তৈরি করে।

 

উল্লেখ্য, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথম ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি হন। তার এই বিচার প্রক্রিয়া ২০২০ সালের মে মাসে শুরু হয়েছিল।

 

সূত্র: সিএনএন