শনিবার   ১৪ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৯ ১৪৩২   ২৫ রমজান ১৪৪৭

ভোট টানতে উচ্চবর্ণ কোটা বিজেপির

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:২১ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

আজ পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন করা হতে পারে * বার্ষিক আয় ৮ লাখ রুপির কম, ৫ একরের কম কৃষিজমি- তারাই এ সুবিধা পাবেন

 

আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া উচ্চবর্ণের মানুষদের জন্য এবার কোটা পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে ভারত।

 

উচ্চবর্ণের জন্য সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কোটা প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সোমবার মন্ত্রিসভায় সর্বসম্মতিতে পাস হয় এ প্রস্তাব। এবার মোদি সরকার কোটা আইন সংশোধনে উদ্যোগী হবে।

কারণ এ কোটা কার্যকর করতে হলে সংবিধানের ১৫ এবং ১৬ নম্বর ধারার সংশোধন করতে হবে। আজ (মঙ্গলবার) পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন করার কথা রয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসসহ বিরোধী দলের নেতারা। তারা একে ‘ভোট ব্যাংক বাড়ানোর কৌশল’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

এনডিটিভি জানায়, এ কোটার আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ এবং উচ্চশিক্ষিতরা সরাসরি সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাবেন। যাদের বার্ষিক আয় ৮ লাখ রুপির কম, ৫ একরের কম কৃষিজমি, ১ হাজার বর্গফুট দৈর্ঘ্যরে নিচে আবাসিক ভবন রয়েছে- তারাই এ সুবিধার আওতায় আসবেন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চবর্ণের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণীও এ সংরক্ষণের আওতায় পড়বে।

যেটা ১৫ এবং ১৬ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা নেই। জাতি বা শ্রেণী নয়, আর্থিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সংরক্ষণের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছিল এনডিএর শরিক শিবসেনা। কিন্তু মোদি জমানার সাড়ে চার বছরে তাতে কার্যত কর্ণপাত করেনি বিজেপি। এবার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষের আগে উচ্চবর্ণের জন্য কোটায় সবুজ সংকেত দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

এটি কার্যকর হলে ভারতে কোটার পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ শতাংশ। ১৯৯২ সালে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কোটা ৫০ শতাংশের বেশি হয়ে গেলে সংবিধান সংশোধন করতে হয়। আর এজন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়াও বেশ জটিল। তাছাড়া সংসদ থেকে দ্রুত বিষয়টি পাস করানোও কঠিন হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

এ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অনেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। শুধু জাতিগত নয়, আর্থিক মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই কোটা তৈরির পক্ষে আরএসএস। এত দিন তফসিলি জাতি, উপজাতিসহ বিভিন্ন শ্রেণীর জন্য কোটা থাকলেও সাধারণ শ্রেণীর জন্য কোনো কোটা ছিল না। ফলে সাধারণ মধ্যবিত্তদের মধ্যে ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল।

ভারতের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন কৌশলে মাঠে নামছে বিজেপি। এর আগে দলিতদের ভোট টানতে খিচুড়ি বিলিয়ে রেকর্ড করেছে বিজেপি। রাজনৈতিক শিবিরের ব্যাখ্যা- এ কোটা প্রস্তাবের মাধ্যমে মধ্যবিত্তদের মন জয়ের চেষ্টা করছে মোদি সরকার।

যেখানে মোদি সরকার কর্মসংস্থানই দিতে পারছে না, সেখানে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর জন্য ১০ শতাংশ কোটা চমক ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মনে করছেন বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই কোটা প্রস্তাব পাসের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দলিত নেতা কাঞ্চা ইলাইয়া।

আসামে আরেক শরিক হারাল বিজেপি : আসামে নাগরিক সংশোধন বিলকে কেন্দ্র করে রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি আরেক শরিক দল হারিয়েছে। সোমবার বিজেপি জোট ত্যাগ করেছে আসাম গণপরিষদ (এজিপি)। লোকসভা নির্বাচনে কয়েক মাস আগে জোটে এ ধাক্কা মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়ালের সরকারে প্রভাব ফেলবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এজিপি প্রেসিডেন্ট আতুল বোরা বলেন, ‘নাগরিক পুঞ্জিকরণ বিল নিয়ে নীতিবাচক প্রভাব সামলাতে আমরা বিজেপিকে যথেষ্ট সহায়তা দিয়েছি। কিন্তু এখন আমরা আসামের নাগরিকদের পাশে দাঁড়াতে চাই।’