শনিবার   ১৪ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৯ ১৪৩২   ২৫ রমজান ১৪৪৭

পাকিস্তানের পার্বত্যাঞ্চলের নারীদের ভরসা শেরবানু

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:৪৬ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

পাকিস্তানের প্রায় অর্ধেক নারী তাদের সন্তান প্রসবকালীন সময়ে প্রশিক্ষিত ধাত্রী সেবা পাননা। দেশটির হিমালয়ের নিকটাবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহের নারীরা অধিকাংশ সময়েই কোনো ধাত্রীর সাহায্য ছাড়াই সন্তান প্রসব করে থাকেন।

শেরবানু জানেন সন্তান জন্মদানের সময় কোনো প্রশিক্ষিত ধাত্রীর সহায়তা না পাওয়া কতটা ঝুঁকি ও জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। কারণ তিনি নিজেও সন্তান জন্মদানের সময় কোনো প্রশিক্ষিত ধাত্রীর সহায়তা পাননি।

তাই এ জটিলতা লাঘবে তিনি শূন্যস্থান পূরণের সিদ্ধান্ত নেন ও ধাত্রী হওয়ার প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। বিগত ১০ বছর ধরে তিনি দেশটির একটি দুর্গম পার্বত্যাঞ্চলে ধাত্রী হিসেবে সেবা দিয়ে আসছেন।

 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে কখনো গুনে দেখিনি, তবে এটি নিশ্চিত অন্তত একশ শিশুর জন্ম হয়েছে আমার হাত ধরেই।’

শেরবানু জানান, সন্তান জন্মদানের সহায়তার বিনিময়ে তিনি অর্থকড়ি নেন না। কেউ খুশি হয়ে চা খেতে দেয় আবার কেউবা হাতে একশ রুপি দেয়। এ এলাকার মানুষ গরীব এবং তাদের অনেকেরই কাজ নেই।

এভাবেই নিজের কাজ নিয়ে আনন্দের কথা বর্ণনা করছিলেন শেরবানু।

তিনি বলেন, ‘যখন আমার নিজের প্রথম সন্তান হয়েছিল তখন পুরো গ্রামে কোনো ধাত্রী ছিল না। দুই-তিন দিন আমি কষ্ট করেছি সন্তান জন্মের সময় কারও সহায়তা ছাড়াই। তখনই কষ্টটা আমি অনুভব করেছি। আর সে কারণেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে এটিই ভালো করে শিখবো।’

শেরবানু বলেন, এই পার্বত্য এলাকায় কোনো ধরনের সুযোগ সুবিধাই নেই। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে কোনো গাড়িই পাওয়া যায় না। কিন্তু দিনে বা রাতে যখনই হোক, আমাকে কেউ ডাকলেই আমি চলে যাই।

 

স্থানীয় নারীদের কাছে শেরবানু এখন রীতিমত ‘সুপারওম্যান’। যিনি নারীদের সহায়তার জন্য নিজেই মিডওয়াইফ কিট কিনেছেন এবং তার আছে নিজস্ব প্রেশার মাপার যন্ত্র।

গ্রামের গর্ভবতী নারীদের খোঁজ থাকে তার কাছে এবং নিজেই ঘুরে ঘুরে খবর নেন, প্রেশার মাপেন। দেখেন সব ঠিক আছে কি-না। শেরবানুকে দেখে গ্রামের আরও কয়েকজন নারী ধাত্রীবিদ্যায় উৎসাহী হয়েছেন। তারপরেও এটি যথেষ্ট নয়। আরও বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষিত নারী দরকার। কারণ এই এলাকাটি অনেক বড়।

শেরবানুর আশা, একদিন তার এলাকার সব মেয়েরাই প্রয়োজনীয় সব স্বাস্থ্যসেবা পাবে।