মঙ্গলবার   ২৮ জুলাই ২০২৬   শ্রাবণ ১৩ ১৪৩৩   ১২ সফর ১৪৪৮

কমিউনিটিতে সৌহার্দ্যরে সুবাতাস!

আজকাল রিপোর্ট -

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:৫১ এএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শনিবার


 
 
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটি। অগ্রসরমান এথনিক কমিউনিটিগুলোর মধ্যে অন্যতম। নতুন অভিবাসী গোষ্ঠী হলেও পরিশ্রম ও সততা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এদেশের মূলধারায় তাদের পদচারণা প্রসংশিত। দেশ মাতৃকা তথা নাড়িরটানে বাংলাদেশের জন্য তারা মরিয়া। দেশের যেকোন ক্রান্তিকালে ঝাপিয়ে পড়েন তারা। সংগঠন প্রিয় এ জাতিগোষ্ঠী প্রবাসে এসে নিউইয়র্কেই প্রায় ৪ শতাধিক সংগঠন গড়ে তুলেছেন। এর মধ্যদিয়ে গড়ে উঠেছে কমিউনিটির ভাতৃত্ব-বন্ধন ও সামাজিক যোগাযোগ। এমন দৃশ্যটি অন্য কোন কমিউনিটিতে চোখে পড়ে না। কমিউনিটির যেকোন দু:সময়ে সবাই এক অপরের। ব্যতিক্রম যে নেই তা বলা যাবে না। ব্যক্তিগত ও সংগঠনের টানাপোড়েনে বিষাদের ছায়াও নেমে আসে। একে অপরের তিরস্কার ও পরনিন্দাতেও এগিয়ে থাকার প্রতিযোগিতা চলে। 
এই গেল বছরই বাংলাদেশ প্যারেড নিয়ে কমিউনিটিতে বিভক্তি দেখা দেয়। যুক্তিতর্কে প্রবাসের স্বণামধন্য ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মি শাহ নেওয়াজ ও ব্যবসায়ী মোহাাম্মদ আজিজের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। আর এ বিরোধকে উস্কে দেবার জন্য উভয় পক্ষকেই তা দিতে থাকেন সুবিধাভোগী একটি মহল। এ বিরোধ কমিউনিটিতে সামান্য হলেও বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ২ পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে অস্বস্তিও বিরাজ করছিল। 
৯/১১। বাংলাদেশ সোসাইটির একটি সংবাদ সম্মেলন চলছিল জ্যাকসন হাইটসে। সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ সহ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলন চলাকালে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলেন সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ। যাদের মধ্যকার বৈরিতা কমিউনিটির মুখেমুখে। শাহ নেওয়াজ দাঁড়িয়ে  হাত বাড়িয়ে দিলেন আজিজের দিকে। আজিজও হাতটি ধরলেন। শাহ নেওয়াজ হাতটি কাছে নিয়ে আজিজকে বসালেন পাশের চেয়ারে। কুশল বিনিময় করলেন। এমন দৃশ্য দেখে কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা নড়েচড়ে বসলেন। এ দৃশ্যটির ছবি ধারণ করতে সবারই ক্যামেরা ছিল সচল। ফিস ফিস আওয়াজ উঠছিল। অনেকেই বলছিলেন, শাহ নেওয়াজ প্রকৃত কমিউনিটির নেতার মতো আচরণ দেখালেন। ২ নেতা পাশাপাশি বসে সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যন্ত থাকলেন। মুহূর্তের মধ্যে কমিউনিটিতে এমন ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে সবাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। সাধুবাদ জানান শাহ নেওয়াজকে।