শনিবার   ৩০ আগস্ট ২০২৫   ভাদ্র ১৪ ১৪৩২   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

প্রার্থীদের নাম থাকছে না ব্যালটে প্রবাসীরা ভোট দেবেন মার্কায়

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৪৯ এএম, ৩০ আগস্ট ২০২৫ শনিবার


#  নভেম্বরেই ব্যালট আসবে মিশন ও কনস্যুলেটে
 

নির্বাচনে এই প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। তাদের জন্য ব্যালট পেপার পাঠানো হবে নভেম্বরে। অর্থাৎ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণারও আগে। অর্ন্তবর্তি সরকারের ঘোষণা মতে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে ডিসেম্বর নাগাদ তফসিল ঘোষণা হতে পারে। কিন্তু তফসিলেরও আগে ব্যালট পেপার পাঠানো হলে প্রার্থীর নাম কীভাবে দেওয়া হবে - এটা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে যে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে তাতে কোনও প্রার্থীর নাম থাকবে না। নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত প্রতীকসমূহ ব্যালট পেপারে অঙ্কিত থাকবে। প্রার্থী চূড়ান্ত হবার পর ভোট দিয়ে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিতে হবে। ভোটের চিঠি ভোটের দিনে খোলা হবে।
বিদেশে প্রবাসী বাংলাদেশীর সংখ্যা কত তা নিয়ে মতভেদ আছে। সাধারনভাবে মনে করা হয় যে, দেড় কোটির মতো বাংলাদেশী বিদেশে থাকেন। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে তার আলোকে নভেম্বরে প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। কারণ এসব ব্যালট পেপারের মধ্যে ভোট দিতে কম সময় লাগলে ভোটের দিনে তা পৌঁছতে পারবে না। এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৪টি কাজকে গুরুত্ব দিয়ে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে মোটাদাগে নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমগুলো কোন সময়ের মধ্যে শেষ হবে সেই সময়সীমা উলে¬খ করেছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ও েেভাটগ্রহণের সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে কিছুই উলে¬খ নেই। এমনকি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলায় ইসির পদক্ষেপ সম্পর্কেও কিছু উলে¬খ নেই। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে এ রোডম্যাপ ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। যদিও তিনি এটিকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা’ বলে উলে¬খ করেছেন।
তবে ভোটের সম্ভাব্য সময় জানতে চাইলে সরাসরি উত্তর দেননি ইসির এ সিনিয়র সচিব। ফ্রেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার কথা উলে¬খ করে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের তারিখের ৬০ দিন আগে আমরা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করব। কিন্তু ভোটগ্রহণের তারিখটা তো আমি জানি না। অপর এক প্র্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদেরকে অর্ন্তবর্তি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বলা হয়েছে যে, আগামী রমজানের আগে ভোটের ব্যবস্থা করতে। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে ১৭, ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান মাস শুরু হবে। এভাবে আপনারা হিসাব করে নিতে পারেন।
২০০৮ সালের নির্বাচন সামনে রেখে রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার রেওয়াজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২২ সালের সেপ্টম্বরে। ওই রোডম্যাপে নির্বাচনের লক্ষ্য, চ্যালেঞ্জ ও চ্যালেঞ্জ উত্তরণের উপায় উলে¬খ ছিল। বর্তমান এএমএম নাসির উদ্দিন কমিশন তাদের রোডম্যাপে এসব কিছুই উলে¬খ করেনি। নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো কোন সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে, সেসব বিষয় উলে¬খ করেছে।
ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক অনেক কাজ শেষ করেছে ইসি সচিবালয়। সেগুলোও রোডম্যাপে উলে¬খ রয়েছে। তবে এবারের রোডম্যাপে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ইসির তত্ত্বাবধানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার চালানোর বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি উলে¬খ রয়েছে।
 
নির্বাচনের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, প্রতিটি জিনিসই চ্যালেঞ্জের। আগামীতে আমার জীবনে দুর্ঘটনা ঘটবে না এটা কি আমি জানি? সুতরাং, প্রত্যেকটি জিনিসই চালেঞ্জের। প্রত্যেকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানুষের প্রস্তুতি থাকতে হবে, এটাই দৃঢ়তা। এটাই আমরা চাই। তিনি বলেন, না জেনে বাতাসের সঙ্গে সঙ্গে তলোয়ার খেলানো যায় না। চ্যালেঞ্জ আসবে, পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। তার জন্য মানসিকভাবে যে দৃঢ়তা থাকা দরকার, আপনার-আমাদের সবার রয়েছে। সবার সহযোগিতা কামনা করে চ্যালেঞ্জের বিষয় থাকলে তা কমিশনের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান সচিব।
যা আছে রোডম্যাপে : নির্বাচনে প্রস্তুতিমূলক ২৪টি কাজের কোনটি কখন সম্পন্ন হবে তা উলে¬খ রয়েছে রোডম্যাপে। ওইসব কার্যক্রম ইসির কোন বিভাগ বাস্তবায়ন করবে তাও বলে দেওয়া হয়েছে।
সংলাপ শুরু সেপ্টম্বরের শেষ সপ্তাহে : রোডম্যাপ অনুযায়ী রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনকে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে সংলাপ শুরু হবে। শেষ হতে সময় লাগবে এক থেকে দেড় মাস। এ সময়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশীল সমাজ, নারী সমাজের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পর্যবেক্ষক/পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে সংলাপ হবে।
ভোটার তালিকা চূড়ান্ত ৩০ নভেম্বর : চলতি বছরে তিনবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে দু’বার তালিকা প্রকাশ করেছে। তৃতীয় তালিকার খসড়া প্রকাশ করবে আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা ভোটার হতে পারবেন। ওই তালিকা চূড়ান্ত হবে ২৭-৩০ নভেম্বরের মধ্যে।
 
নির্বাচনি আইন ও বিধি সংশোধন ৩০ সেপ্টম্বরের মধ্যে : নির্বাচনি আইন ও আচরণবিধি সংশোধনের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ আইন ১৯৯১ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ২০০৯, এই তিনটা এই মুহূর্তে আইন মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন আছে। এছাড়া আমরা সংশোধনের জন্য দুটি আইনের খসড়া আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। রোডম্যাপে বলা হয়েছে, আগামী রোববার আরপিও সংশোধনী খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আগামী ৩০ সেপ্টম্বরের মধ্যে আইন ও বিধি সংশোধন শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক দল ও সীমানা নির্ধারণ : নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী ৩০ সেপ্টম্বরের মধ্যে শেষ করবে ইসি। আর সংসদীয় আসনের সীমানা পুননির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ ১৫ সেপ্টম্বর। পুননিধারন আসনের জিআইএস ম্যাপ প্রকাশ হবে ৩০ সেপ্টম্বর।
পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন : রোডম্যাপে প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকে যাওয়া পর্যবেক্ষক সংস্থার তালিকা ২৫ সেপ্টম্বরের মধ্যে তৈরি করার কথা উলে¬খ করা হয়েছে। খসড়া তালিকার ওপর শুনানি হবে ২৮ সেপ্টম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত হবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত।
প্রবাসী ভোটার : প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে তাদের নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রবাসী ভোটার তালিকা মুদ্রণ হবে ১-৫ ডিসেম্বর। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো হবে। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে তারা ভোট দিয়ে দেশে ব্যালট পেপার ফেরত পাঠাবেন।