শুক্রবার   ২৯ আগস্ট ২০২৫   ভাদ্র ১৪ ১৪৩২   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

বহু নারীর জীবন নষ্টে তৌহিদ আফ্রিদি

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:১৬ এএম, ২৯ আগস্ট ২০২৫ শুক্রবার

অনলাইন আর অফলাইন- সব লাইনেই সুন্দরীদের টার্গেট করতেন তৌহিদ আফ্রিদি। স্ট্রিম কার নামে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে তিনি নারী শিকার করতেন। আর বিভিন্ন ক্লাব আর অনুষ্ঠানে নিজে হাজির থেকে প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের নিজের কবজায় নিতেন। আর এসব নারীকে তিনি পাঠাতেন সাবেক মন্ত্রী আর পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে। বিনিময়ে অনলাইনে রাজত্ব করতেন তৌহিদ আফ্রিদি। একসময় তিনি হয়ে ওঠেন অনলাইন মাফিয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য দিয়ে বলেছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদের ছত্রছায়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি হয়ে ওঠেন অনলাইন মাফিয়া। তিনি এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠেন যে তার কথামতো চলতে হতো অনলাইন ক্রিয়েটরদের। কথা না শুনলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হতো গোপন ডেরায়। মারধর থেকে শুরু করে হুমকিধমকি দেওয়া হতো। এমনকি প্রশাসনের লোকজনের সামনেই গুম করা হবে বলেও হুমকি দিতেন তৌহিদ। এ ছাড়া অবৈধ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি অন্তত অর্ধশত তরুণীকে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করান। আর এই কাজে সঙ্গে থাকতেন আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ছেলে জ্যোতি। জুলাইয়ের দুটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের প

 

জানা গেছে, কামাল, হারুন ও আফ্রিদি সিন্ডিকেট এক হয়ে কাজ করে আসছে কয়েক বছর ধরে। আফ্রিদির অন্যতম টার্গেট ছিলেন সুন্দরী নারী-তরুণী সাপ্লাই করা, তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও মদ্যপান। মতবিরোধ হলে দিতেন হুমকি এবং নির্যাতন চালাতেন। এ ছাড়া মাদক কারবারে আফ্রিদির হাত ছিল পাকা, কোনো রকম ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই হারুন-কামালের শেল্টারে চালাতেন এসব। স্ট্রিম কার নামে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে তৌহিদ আফ্রিদি অনলাইন জুয়া এবং মাদকের কারবার চালাতেন। এই অ্যাপসের মাধ্যমেই তিনি শিকার করতেন সুন্দরী নারীদের। এ ছাড়া তার বাবা নাসির উদ্দিন সাথীর অবৈধ সব দখলদারির আশ্রয়প্রশ্রয় দিতেন হারুন ও কামাল। সেজন্য ডিবি অফিসে আফ্রিদির কথামতো যাকেতাকে তলব করতেন হারুন। সেখানে নিয়ে চালানো হতো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন- যা আফ্রিদি গ্রেপ্তারের পরপরই একাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ভুক্তভোগী তরুণী ও মানুষের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, তৌহিদের অন্ধকারজগতের নেপথ্যের শক্তি ছিলেন অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক অনেক আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা। এভাবে তার নারী কেলেঙ্কারিসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। সূত্র