শনিবার   ১৪ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৯ ১৪৩২   ২৫ রমজান ১৪৪৭

সৌদিতে থাকা রোহিঙ্গাদেরও বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে

নিউজ ডেক্স

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৩:২৯ এএম, ৮ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে বিতাড়িত করতে সব ধরনের চাপ দেওয়া হচ্ছে। মিডল ইস্ট আইতে (এমইই) পাঠানো একাধিক ভিডিওতে এমন চিত্র উঠে এসেছে। 

গত রোববার করা ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, জেদ্দার সুমায়সি ডিটেনশন সেন্টার ৫-৬ বছর ধরে আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ডিটেনশন সেন্টার আটকে থাকা একজন রোহিঙ্গা লুকিয়ে ভিডিওটি করেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক ডজন রোহিঙ্গাকে বিতাড়িত করতে লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে।

কিছু রোহিঙ্গাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেখা গেছে। হাতকড়া পরানোর কারণ, তারা বাংলাদেশে যেতে অসম্মতি প্রকাশ করেছে।

নিজেকে রোহিঙ্গা দাবি করা একজন ব্যক্তি ভিডিওতে বলেন, ‘আমি গত ৫-৬ বছর যাবত এখানে আছি। এখন তারা আমাকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। আমার জন্য দোয়া করবেন।’

এমইইতে পাঠানো আরেকটি রেকর্ডিং থেকে একই ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যায়।

নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া আটক এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে তারা (সৌদি অভিবাসন পুলিশ) আমাদের সেলে আসে। ব্যাগ গুছিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে বলে। তারপর আমার হাতে হাতকড়া পরানো হয়। কিন্তু যেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা হচ্ছে, যেটা আমার দেশ নয়। আমি রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি নই।’

রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট নে সান লুইন সৌদি থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের নিন্দা জানান।

তিনি এমইইকে বলেন, বিতাড়িত না করে ওই সব রোহিঙ্গাদের সৌদি আরবে মুক্তি দেওয়া হলে তারা বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা পরিবারকে সমর্থন দিতে পারতো। তারা নিশ্চয়ই হাতকড়া পরানোর মতো অপরাধী নয়। তাদের প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষের অপরাধীর মতো আচরণ দেখে আমি খুব মর্মাহত।

‘‘আমি সৌদি সরকারকে আহ্বান জানাই, তাদের বিতাড়িত না করে যত দ্রুত সম্ভব তাদের মুক্তি দিন। এখন তাদের বিতাড়ন করলে তারা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরেই ফিরে যাবে আর শুধু বাংলাদেশে শরণার্থীর সংখ্যা বাড়াবে।’’

গত বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব সফর করে আসার কয়েকদিন পরেই এমইআই খবর প্রকাশ করে, আটক রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের প্রস্তুতি চলছে।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আটক রোহিঙ্গাদের শারীরিকভাবেও নির্যাতন করছে সৌদি অভিবাসন পুলিশ। তাদেরকে কাগজপত্রে সই করতেও বাধ্য করা হচ্ছে।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে বাংলাদেশে।