শনিবার   ১৪ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২   ২৫ রমজান ১৪৪৭

তাইওয়ানকে সামরিক হুমকি চীনের

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১২ পিএম, ৪ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

তাইওয়ান চীনেরই অংশ, অঞ্চলটিকে অবশ্যই চীনের সঙ্গে একীভূত হতে হবে- এটা মেনে নিতে অঞ্চলটির জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। হুশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে একীভূত করা নিশ্চিত করতে সামরিক শক্তির ব্যবহারের অধিকার রাখে বেইজিং।

তাইওয়ান যে চীনের অংশ, তা কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না। বেইজিংয়ে বুধবার স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক ভাষণে জিনপিং এ কথা বলেন। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধের পর আলাদা হয়ে যায় চীন ও তাইওয়ান। তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি প্রদেশ মনে করে চীন। স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা ঘোষণা করতে চাইলেও তা মেনে নেয়নি বেইজিং। তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে একীভূত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রকাশ করে এদিন ভাষণ দেন জিনপিং। ‘এক দেশ, দুই নীতি’ বাস্তবায়নের জন্য চীনা প্রেসিডেন্ট বেইজিং ও তাইপের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাইওয়ানিজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা ‘দুই চীন’ (একটি চীন, অপরটি তাইওয়ান) অথবা ‘স্বাধীন তাইওয়ান’ মতবাদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আমরা তাদের ঘোর বিরোধী। একীভূত হওয়াই ঐতিহাসিক ও আইনগত বিষয় এবং সঠিক পথ।

তাইওয়ানের স্বাধীনতার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ৭০ বছরের বিভাজন নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন শি। চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা স্বাধীনতাকামী কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পরাজিত করে বিশাল জয় অর্জন করতে সমর্থ হয়েছি। তাইওয়ান যে চীনের অংশ এবং ওই প্রণালীর দুই পাশের অঞ্চলও যে চীনের, এই ঐতিহাসিক ও বৈধ সত্যকে কোনো দল কিংবা কেউই পরিবর্তন করতে পারবে না। শি জিনপিং আরও বলেন, চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলনে কোনো বহিরাগত শক্তি হস্তক্ষেপ করলে কিংবা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বাধা দিলে চীনের কাছে প্রয়োজনীয় বিকল্প সব পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। একীভূতকরণের জন্য তাইওয়ানকে হংকং মডেল অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, হংকংকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা গত ৫০ বছর ধরে চলে আসছে।

গত ২০ বছরে হংকংয়ে যে ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে তার প্রতি তাইওয়ানিজদের নজর দিতে বলেছেন শি। হংকং চীনের দুটি প্রশাসনিক অঞ্চলের একটি। অপর প্রশাসনিক অঞ্চলটি হল ম্যাকাও। তাইওয়ানকে সবসময়ই চীন থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ বলে বিবেচনা করে বেইজিং। এ নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথমবারের মতো সরাসরি মন্তব্য করলেন। ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চীনা প্রেসিডেন্টের এমন তির্যক বক্তব্যের আগের দিন মঙ্গলবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন বলেন, তাইওয়ান চীনের ‘এক দেশ, দুই নীতি’তে বিশ্বাস করে না। তার দেশের ওপর কেউ কোনো ধরনের আগ্রাসন চালাতে পারবে না। দেশের দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সাই ইং-ওয়েন বলেন, আমাদের জনগণ নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা চায়। কারো অধীনে থাকতে চায় না। ২০২০ সালে তাইওয়ানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চীন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।