বুধবার   ২৪ জুলাই ২০২৪   শ্রাবণ ৯ ১৪৩১   ১৭ মুহররম ১৪৪৬

শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে আজ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরু

আজকাল স্পোর্টস

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৯:৪৯ এএম, ৮ জুন ২০২৪ শনিবার



নড়বড়ে ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আজ (শুক্রবার) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তদের। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচটি। এ ম্যাচ জিতে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করতে মরিয়া বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আইসিসির সহযোগী সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার এবং অফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের কাছে ৬০ রানের বড় হারে এখন সমালোচিত বাংলাদেশ দল। বিশেষ করে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বিপক্ষে লিটন দাস-সৌম্য সরকারদের লজ্জাজনক পারফরম্যান্সে চরম হতাশ বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। তারপরও শান্ত বাহিনীর ভালো সূচনাই আশা করছেন তারা। যদিও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেওয়ার মত দল নয় বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ^কাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার প্রথম ম্যাচের বাজে পারফরম্যান্স আশাবাদী করছে টাইগার শিবিরকে। এ ম্যাচের পরই লঙ্কানদের মুখোমুখি হচ্ছে বলে বাংলাদেশ দলকে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে মন্থর উইকেটের সাথে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় মাত্র ৭৭ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা। বাংলাদেশ দলের মূল সমস্যা ব্যাটিং হলেও আশানুরুপ বোলিং পারফরম্যান্সের জন্য প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের মাথা ব্যাথা কারণ হবে মুস্তাফিজুর রহমানরা। মন্থর উইকেটে খেলা হবে বলে বোলারদের কল্যাণেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। ডালাস এবং নিউইয়র্কের সাথে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটের মিল পাওয়া যাচ্ছে। লঙ্কানদের ধরাশায়ী করতে উইকেটের উপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশ। এই গ্রুপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার শোচনীয় হারের পর ধারণা করা হচ্ছে উইকেটটি নিম্নমানের। এই পিচের সমালোচনা করেছে শ্রীলঙ্কাও। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশকে নতুনভাবে ইতিহাস লিখতে হবে। ২০০৭ সালে প্রথম আসর দিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করে টাইগাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওই আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেয় বাংলাদেশ দল। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ওই জয়টিই এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বড় কোনো দলের বিপক্ষে একমাত্র জয় বাংলাদেশের। যদিও অষ্ট্রেলিয়ায় সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনটি জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এটি এক আসরে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড তাদের। কিন্তু বাংলাদেশের ওই তিনটি জয়ই ছিল ছোট দলের বিপক্ষে। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ১৬ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ। এরমধ্যে পাঁচটিতে জয় বাংলাদেশের। বাকি ১১ ম্যাচ জিতেছে লঙ্কানরা। বিশ্বকাপে দুইবারের দেখায় দু’টিতেই জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে বড় দলগুলোর মধ্যে একমাত্র শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই সবচেয়ে বেশি জয় আছে টাইগারদের। এই পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা।
এবারের আসরে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে গতকাল বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘আগে যা হয়েছে তা নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমরা জানি, আমাদের কতটা সামর্থ্য। আমাদের সাহসী হতে হবে এবং পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে হবে।’
টুর্নামেন্টের ‘ডি’ গ্রুপে শ্রীলঙ্কা ছাড়াও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, নেপাল ও নেদারল্যান্ডস। পরের রাউন্ডে যেতে চাইলে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে যেকোন একটি বড় দলকে হারাতেই হবে বাংলাদেশকে। শান্তর নির্ভীক ক্রিকেট খেলার ইচ্ছা থাকলেও অভিজ্ঞ ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বিশ্বাস টুর্নামেন্টে ভালো শুরু যেকোন দলকে আত্মবিশ^াসী করে তোলে। তিনি বলেন, ‘আমরা কীভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করবো, তার উপর সবকিছু নির্ভর করছে। আমাদের ভালো শুরু করতে হবে। শুরুটা ভালো করতে পারলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাবো বলেই আমার বিশ্বাস।’ সাইড স্ট্রেন ইনজুরির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজে এবং অনুশীলন ম্যাচে খেলতে না পারা পেসার তাসকিন আহমেদের প্রত্যাবর্তনে আত্মবিশ^াসী থাকবে বাংলাদেশ। কিন্তু দলের আরেক সেরা পেসার শরিফুল ইসলামকে পাবে না টাইগাররা। ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বল হাতে ইনজুরিতে পড়েন শরিফুল।
অপরদিকে চাপে থাকবে শ্রীলঙ্কা। কারণ বাংলাদেশকে যদি হারাতে না পারে তাহলে পরের রাউন্ডে যাবার পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে তাদের। সেক্ষেত্রে অনেক যদির উপর নির্ভর করতে হবে লঙ্কানদের। নিজেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারানোর চাপ দল কাটিয়ে উঠবে বলে বিশ^াস করেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক হাসারাঙ্গা ডি সিলভা। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে চাই। এটা পারবো বলেই বিশ্বাস আমরা। সতীর্থরা নিজেদের সেরা দিতে পারলে বাংলাদেশকে হারানো কঠিন কোনো কাজ না। তাদেরকে হারিয়েই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লক্ষ্য আমাদের। কারণ প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে এখন অনেকটাই ব্যাক ফুটে আমরা। তাই দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ভাবছি না।’