ভারতে সমঅধিকার দাবিতে ৬২০ কিমি. নারীপ্রাচীর
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৭:৫২ পিএম, ৪ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার
সমঅধিকারের দাবিতে ভারতের কেরালা রাজ্যে ৬২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানবশিকল তৈরি করেছেন নারীরা। দক্ষিণাঞ্চলীয় এ রাজ্যের শবরীমালা মন্দিরে ঐতিহ্যগতভাবেই ঋতুমতী নারীদের প্রবেশ করা নিষেধ।
১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায়। এ ব্যবস্থা ভারতীয় সংবিধানের পরিপন্থী বিবেচনায় ২৮ সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ আদালত এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় দেন। কিন্তু তারপর থেকে মন্দিরটির উদ্দেশ্যে আসা নারী দর্শনার্থীরা প্রতিবাদকারীদের হামলার মুখে পড়ছেন। এ লিঙ্গবৈষম্য রুখতে কেরালার বামপন্থী জোট সরকারের উদ্যোগে এ ‘নারীপ্রাচীর’ গড়ে তোলা হয়।
কেরালার সব জাতীয় মহাসড়কজুড়ে এ প্রাচীর গড়ে তুলতে রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রায় ৫০ লাখ নারী যোগ দিয়েছিলেন বলে বিবিসি হিন্দিকে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। কেরালার সর্ব উত্তরের শহর কাসরাগড থেকে সর্ব দক্ষিণের শহর থিরুভানথাপুরাম পর্যন্ত এই নারীপ্রাচীর বিস্তৃত ছিল বলে জানিয়েছেন তারা। উদ্যোক্তারা এই মানবপ্রাচীরে ৩০ লাখের মতো জমায়েত আশা করলেও উপস্থিতির সংখ্যা তাদের প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে যায়।
এদিকে, ভারতের শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশে বাধা কেটে গিয়েছিল সুপ্রিমকোর্টের রায়ে। চার মাস কেটে গেলেও নারীরা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেননি। অবশেষে ইতিহাস গড়লেন দুই নারী। শতাব্দীর প্রাচীন প্রথা ভেঙে বুধবার শবরীমালা মন্দিরে ঢুকলেন ৪০ বছরের দুই নারী।
শত বাধা-বিপত্তি অগ্রাহ্য করে ব্রহ্মচারী আয়াপ্পার দর্শন করেন তারা। এই দুই সাহসী নারীর একজনের নাম বিন্দু অপর জন কণকদুর্গা। পুলিশ বলছে, বুধবার ভোররাতে মন্দিরে প্রবেশ করেন ওই দুই নারী। প্রার্থনা সেরে দিনের আলো ফোটার আগেই চলে যান তারা। ওই ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন ছিল পুলিশ কর্মীরা। গত ডিসেম্বরেও একবার মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন তারা। সেবার বিফল হয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের।
গতবার পাম্বা বেস ক্যাম্প থেকে ছয় ঋতুবতী নারীসহ ১১ জন মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেন।
