শনিবার   ১৪ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২   ২৫ রমজান ১৪৪৭

মন্দির বিক্ষোভে ঘি ঢালছে বিজেপি

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৪৮ পিএম, ৪ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

ভারতে শতবর্ষের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে শবরীমালা মন্দিরে দুই মহিলার প্রবেশের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ডাকা বনধে এক প্রকার অচল হয়ে গেছে কেরালা রাজ্য। আর এর পেছনে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ইন্ধন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

তার অভিযোগ, শবরীমালা মন্দির ইস্যুতে হরতাল-বিক্ষোভে বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোই উসকানি দিচ্ছে।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ১২ ঘণ্টার বনধে কেরালার বিভিন্ন প্রান্তে বনধ সমর্থনকারীদের তাণ্ডবের খবর মিলেছে। বাস ভাংচুর, অবরোধ-বিক্ষোভে উত্তাল কার্যত গোটা রাজ্য। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া, বিবিসি, আনন্দবাজারের।

প্রসঙ্গত, বুধবার ভোরে বছর চল্লিশের দুই মহিলা বিন্দু আম্মিনি (৪০) এবং কনকদুর্গা (৩৯) শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করেন। তারপর দর্শনার্থীদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিয়ে ঘণ্টাখানেক ধরে ‘শুদ্ধিকরণ’ হয় মন্দিরে।

অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকেই কেরালার বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু করে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। রাস্তা অবরোধ, জোর করে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটে বিভিন্ন জায়গায়। এমনকি সচিবালয়ের সামনে খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির যুব মোর্চার সদস্যদের বিরুদ্ধে।

এর পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ১২ ঘণ্টার হরতালের ডাক দেয় শবরীমালা কর্ম সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠন। তার মধ্যেই বুধবারের বিক্ষোভে আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয় আজ (বৃহস্পতিবার)। হরতালের জেরে রাস্তা অবরোধ, ভাংচুর চলছিলই। মৃত্যুর খবরে আগুনে ঘি পড়ে।

এরপরই কার্যত তাণ্ডব শুরু করেন বনধ সমর্থকরা। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী তিরুঅনন্তপুরম, কালিকট, মালাপ্পুরমসহ বিভিন্ন জায়গায়। ত্রিশুরে একটি বাস ভাংচুর করা হয়।

এ ছাড়া সিপিএম সমর্থকদের পাঁচটি বাড়ি ভাংচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বন্ধ রাখা হয়েছে কর্নাটক স্টেট ট্রান্সপোর্টের কেরালায় চলাচল করা সব বাস। রাজ্যজুড়ে কালা দিবস পালন করছে ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)।

শবরীমালা কর্ম সমিতির নেতা কেপি শশীকলা ক্ষমতাসীর বামপন্থী সরকারের (কমিউনিস্ট পার্টি, মার্কসবাদী) মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা অবরোধ-বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। কেরালার সাধারণ মানুষকেও বন্ধ সমর্থনের আবেদন করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, রাজ্যজুড়ে অশান্তির জন্য বিজেপিকে দায়ী করে বিজয়ন বলেন, শবরীমালা ইস্যুতে এটা বিজেপির পঞ্চম বন্ধ। আর সঙ্ঘ পরিবারের বন্ধ ধরলে এটা গত তিন মাসে রাজ্যে সপ্তম হরতাল। ওদের কাছে এটাই শেষ রাস্তা।

দুর্ঘটনা, মৃত্যু বা আত্মহত্যাকেও শবরীমালার সঙ্গে জুড়ে এই বন্ধ-অবরোধের রাজনীতি করে যাচ্ছে বিজেপি। সুপ্রিমকোর্ট সব বয়সের মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশাধিকার দিয়েছেন। এসব আন্দোলন করার অর্থ শীর্ষ আদালতকে অবমাননা করা।