শনিবার   ১৪ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২   ২৫ রমজান ১৪৪৭

বিয়ে করলেন ভারতের দুই নারী

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৭ পিএম, ৩ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

সমাজের চোখ রাঙানি এড়িয়ে বিয়ে করলেন ভারতের দুই নারী। উত্তর প্রদেশের হামিরপুরের অঞ্চলে ঘটেছে এই ঘটনাট। তাদের একজনের বয়স ২৪, অন্যজনের ২৬। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে একে অন্যকে ভালোবাসতেন তারা। কিন্তু সমাজের চাপে তখন বিয়ে করতে পারেননি তারা। অবশেষে সব বাধা-বিপত্তি এড়িয়ে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন তারা। শুধু তাই নয়, এর জন্য নিজেদের স্বামীদেরও ডিভোর্স দিয়েছেন তারা। যদিও তাদের এই বিয়ে নথিবদ্ধ করতে রাজি হননি ম্যারেজ রেজিস্ট্রার। তাই একটি মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন তারা।

ওই দুই নারী জানায়, সাত বছর আগে কলেজে দেখা হওয়ার সময় থেকেই একে অন্যের প্রেমে পড়ে যান তারা। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতেন একসঙ্গে জীবন কাটানোর। কিন্তু ওই সম্পর্ক জানাজানি হয়ে যাওয়ার পরই দুজনেরই বাড়ি থেকে পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয় তাদের। তার ছয় মাস পরেই তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধেই বিয়েও দিয়ে দেওয়া হয় দুজনের। কিন্তু একে অন্যকে ভুলতে পারেননি বলেই জানিয়েছেন তারা।

সাব-রেজিস্ট্রার রাম কিশোর পাল বলেন, ‘ওই দুই নারী রাথ থানার অধীন হামিরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা শুক্রবার আমার অফিসে এসেছিলেন। তারা মালাবদল করে একে অপরকে বিয়ে করেছেন।’

কিন্তু ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতা অপরাধ নয় ঘোষণা করবার পরেও ম্যারেজ রেজিস্ট্রার এই বিয়েকে মান্যতা দিলেন না কেন? ২১ বছর বয়সী নারীর পক্ষের আইনজীবী দয়াশঙ্কর তিওয়ারি জানান, সমকামী সম্পর্ক মান্যতা পেলেও সমকামী বিয়ে এখনো মান্যতা পায়নি সংবিধানে। তাই সাব-রেজিস্ট্রার রাম কিশোর পাল এই বিয়েকে আইনি স্বীকৃতি দিতে চাননি। কিন্তু লড়াই ছাড়ছেন না ওই দুই নারী।

তিনি আরও জানান, তার মক্কেলের বাবা একজন স্কুল শিক্ষক, আর ২৬ বছর বয়সী ওই নারীর বাবা একজন শ্রমিক। দুজনের ইচ্ছাতেই এই বিয়ে হয়েছে। ওই দুই নারী জানায়, সুপ্রিম কোর্ট ৩৭৭ ধারা বাতিল করায় আর কেউ তাদের একসঙ্গে থাকতে বাধা দিতে পারবে না। স্বামীদের সম্পত্তিও তাদের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন তারা।