পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির দিক পাল্টে যেতে পারে, হুশিঁয়ারি কিমের
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৯:১৪ পিএম, ১ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার
যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ অব্যাহত রাখলে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও এর দিক পাল্টে যেতে পারে বলে হূশিঁয়ারি উচ্চারণ করেছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন।
খ্রিস্টীয় নতুন বছর উপলক্ষে মঙ্গলবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে কিম এ সতর্ক বার্তা দেন। - খবর বিবিসি’র
কিমের এ ভাষণ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে একটি নতুন মোড়ে দাঁড় করালো।
কিম তার প্রদত্ত ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সমগ্র বিশ্বের সামনে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে এবং আমাদের দেশ ও জনগণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখে, তাহলে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে আমাদের নতুন পথে যাওয়া ছাড়া আর বিকল্প থাকবে না।
তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, ব্যবহার ও এর বিস্তৃতি বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে বলে ভাষণে জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফের যে কোনো সময়ে বসতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে উত্তরের শীর্ষ নেতা ২০১৯-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষার ইঙ্গিত দিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র নীতি না বদলালে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধে উত্তর কোরিয়ার সাময়িক বিরতি শেষ হয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা তাদের।
২০১৭ সালে একের পর এক ব্যালিস্টিক ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম এমন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার করে উত্তর কোরিয়া। পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্য কথার লড়াইও চলে।
পরে গেলো বছর খ্রিস্টীয় নতুন বছর উপলক্ষে দেয়া ভাষণে কিম শীতকালীন অলিম্পিকে তার দেশের অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দেন।
এরই ধারাবাহিকতাতে জুনে সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকে মুখোমুখি হন কিম। দায়িত্বে থাকা কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কোনো শীর্ষ নেতার এটিই প্রথম বৈঠক।
যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা ওই বৈঠক থেকেই দিয়েছিল।
ওই প্রতিশ্রুতির পর পিয়ংইয়ং নতুন করে ব্যালিস্টিক ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা ও উৎক্ষেপণ না চালালেও দেশটির ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ বহাল থাকে। নতুন বছরের প্রথম ভাষণে কিম সে প্রসঙ্গেটিই সামনে আনলেন।
