শুক্রবার   ২৪ মে ২০২৪   জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪৩১   ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪৫

সুদানে যুদ্ধে সাড়ে ৪ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত : জাতিসংঘ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৫:২৬ এএম, ১৪ মে ২০২৩ রোববার

সুদানে দুই জেনারেলের মধ্যে চলা ক্ষমতার লড়াইয়ে অন্তত সাড়ে ৪ লাখ শিশু তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। যদিও মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য একটি প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করেছে বিবদমান দুই পক্ষই।

ইউনিসেফ শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আনুমানিক ৮২ হাজার শিশু প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে গেছে। প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার শিশু অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। আফ্রিকান দেশটির সেনাবাহিনী এবং আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যকার সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। রাজধানী খার্তুমে লড়াই অব্যাহত রয়েছে এবং সেখানে এক অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, সুদানের নৃশংস সংঘাত দেশটির শিশুদেরকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ভয়ংকর সব ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে তারা। এ কারণে নিরাপত্তার সন্ধানে তারা তাদের বাড়ি থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা অনুসারে, ১৫ এপ্রিল সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে ১ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, চাদ, মিশর, ইথিওপিয়া, লিবিয়া এবং দক্ষিণ সুদানে আশ্রয় চেয়েছে।

এদিকে মানবিক সহায়তার অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করেছে সুদানের বিবদমান দুই পক্ষ। যদিও যুদ্ধ বিরতিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা এখনো চলছে বলে জানা গেছে। প্রায় এক মাস ধরে যুদ্ধরত সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিরা বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় সুদানের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাবিষয়ক একটি নির্দেশিকায় সই করেন। এটি দুই পক্ষকে মানবিক সহায়তা, বিদ্যুৎ, পানিসহ অন্যান্য মৌলিক পরিষেবা পুনরুদ্ধারের অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া হাসপাতাল থেকে নিরাপত্তা বাহিনী প্রত্যাহারের পাশাপাশি মৃতদের ‘সম্মানজনক দাফনের’ ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে নির্দেশিকায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোচনায় অংশ নেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সমঝোতা না হলেও নতুন অস্থায়ী যুদ্ধ বিরতিতে পৌঁছানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, এটি ঠিক যুদ্ধ বিরতি নয়। এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বিষয়। আমরা আশাবাদী। এটি কার্যকর হলে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাবে। তবে দুই পক্ষই এখনো কোনো সমঝোতা চাচ্ছে না বলেও তিনি জানান।