শনিবার   ১৪ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২   ২৫ রমজান ১৪৪৭

জাদুর পাহাড় আয়ারস রক

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৫৪ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার

পাহাড় হলো পৃথিবীর অন্যতম এক দন্ডায়মান সৌন্দর্য। প্রত্যেক পাহাড়ের রয়েছে স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য যেগুলো এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়কে আলাদাভাবে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করে। এমনি এক পাহাড় আয়ারস রক হচ্ছে পৃথিবীতে প্রস্তর নির্মিত একটি বিশাল আকৃতির পাহাড় যা অন্যান্য পাহাড় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই পাহাড়ের প্রধান বিশেষত্ব হচ্ছে, এই পাহাড়টি ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়। সকালে এক রঙতো দুপুরে আরেক রঙ আবার সন্ধ্যায় বা রাতে দেখা যায়, অন্য আরেকটি রূপ। তাই মানুষ এই পাহাড়ে নাম দিয়েছে জাদুর পাহাড়। ভৌগোলিকভাবে এই আয়ারস রক বা জাদুর পাহাড়ের অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার নর্দান টেরিটোরিতে। জায়গাটিকে সকলেই উলুরু নামে চেনে।

আয়ারস রক পাহাড়টির স্বাভাবিক রঙ কালচে কিন্তু সকালে সূর্যের রশ্মি পাহাড়ের গাঁয়ে পড়লে মনে হয় আগুন লেগে গেছে পাহাড়ের গায়ে। বেগুনি এবং গারো লাল রঙের আলোর বিচ্ছুরণ ঘটতে থাকে পাহাড় থেকে। দিনের বিভিন্ন সময় চলে এই রঙ বদলের খেলা এবং মনে হয় পাহাড়টি যেন সারাক্ষণ রং নিয়ে খেলছে। পাহাড়টির রঙ প্রথম দিকে থাকে হলুদ এরপর সেখান থেকে হয় কমলা পরে লাল মাঝে মাঝে বেগুনি এবং কখনো বা ঘুমোট কালো রং ধারণ করে। রঙের এই রহস্য নিঃসন্দেহে যে কাউকে মুগ্ধ করবে। রহস্যে ঘেরা অদ্ভুত এই পাহাড়টি আসলে একটি বিরাট প্রস্তরখন্ডে আবৃত। এর গঠন কাঠামো ভারী অদ্ভুত। সূর্যের আলোর আপাতন কোণের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্ষণে ক্ষণে এই পাহাড়ের রং পরিবর্তন হতে থাকে।

পাহাড়টির এমন অদ্ভুত রঙ বদলানোর রহস্য নিয়ে মতবিরোধ আছে অনেকের মাঝে। ধারণা করা হয়, রহস্য লুকিয়ে আছে পাহাড়টির ভৌগোলিক অবস্থানের উপর। অনেকে বলে থাকে, পাহাড়ের নিচে এক শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ফিল্ড আছে যার কারণে বিভিন্ন কোণে সূর্যের আলো পাহাড়টির উপরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের রঙবদল হচ্ছে। অনেক কল্পকাহিনীও প্রচলিত আছে এই পাহাড়টিকে নিয়ে। স্থানীয়রা ভাবেন, এই পাহাড়ে পূর্বে জাদুকররা বাস করত তারাই জাদু মন্ত্র দিয়ে এমনটি করে গেছে। তবে এই পাহাড়ের রং বদলানোর আসল রহস্য কারো পক্ষে নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। বাইরে থেকে প্রতিনিয়ত বহু পর্যটক আসে পাহাড়টিকে দর্শন করতে। তাই অস্ট্রেলিয়ান সরকার পরিদর্শনের সুবিধার্থে পাহাড়ের আশেপাশে ৪৮৭ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে মাউন্ট দ্য ন্যাশনাল পার্ক গড়ে তুলেছে যেটি থেকে দূরবর্তী জায়গা থেকে ঘুরতে আসা সমর্থকরা খুব সহজেই আয়ারস রকের রূপসৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।