দুই কোরিয়ার এক রুট প্রকল্প চালু
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ১০:০৪ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার
দুই কোরিয়ার এক রুট প্রকল্প চালু হল। প্রকল্পের আওতায় উত্তর কোরিয়ার পুরনো আমলের সব রেলপথ ও রাস্তাঘাট মেরামত ও আধুনিকায়ন করে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
বুধবার উত্তরের সীমান্তবর্তী শহর কায়েসং এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ২৬ বিলিয়ন ডলারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চীন ও রাশিয়ার কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এই প্রকল্প রেল ও সড়কপথে শিগগরিই দুই দেশকে সংযুক্ত করবে বলে আশা করছেন তারা।
সরাসরি রেলসংযোগ গত ৬৮ বছর ধরে বিভক্ত কোরীয় উপদ্বীপকে এক সুতোয় বাঁধবে- এ আশাবাদ দু’দেশের মানুষের। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও আলজাজিরার।
আন্তঃকোরীয় রেলপথ চালুর আগে গত নভেম্বরেই এক যৌথ জরিপে অংশ নেন দুই দেশের প্রকৌশলীরা। এর কয়েক সপ্তাহ পরেই এদিন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হল। এই প্রকল্প ইতিমধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে। উত্তরের ওপর সংস্থাটির যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
তবে পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ রয়েছে, যা দুই দেশের এই ট্রেন যোগাযোগের উদ্যোগ শিগগির শুরু নাও হতে পারে।
দু’দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর অন্যতম এ যোগাযোগ প্রকল্প। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বের সর্বোচ্চ সশস্ত্র ও সামরিকায়িত সীমান্তে ইতিমধ্যে স্থলমাইন অপসারণ, সীমান্ত পাহারা চৌকি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
এদিন সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী এবং কোরীয় যুদ্ধের সময় বিভক্ত কয়েকজন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে নিয়ে ৯টি বগিসমৃদ্ধ একটি ট্রেন সীমান্তের শহর কায়েসং-এ এসে হাজির হয়।
সেখানে তাদের আগে থেকে উপস্থিত উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারা অভ্যর্থনা জানান। এরপর দুই দেশের কর্মকর্তারা একটি সাইনবোর্ডসহ প্রকল্পবিষয়ক একটি পাথরের ফলকে স্বাক্ষর করেন।
কায়েসং-এর পানমুন রেলস্টেশনে উত্তরের একটি রেলপথের সঙ্গে দক্ষিণের রেল রাস্তার যুক্ত করেন তারা। এ সময় দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা নিজেরাই হাতে তুলে নেন যন্ত্রপাতি।
এ সব পদক্ষেপ নিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে ডিমিলিটারাইজড জোন বা বেসমারিকীকৃত এলাকা পানমুনজাম গ্রামে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ ইস্যুতে গত ১০ বছরের মধ্যে তাদের মধ্যে এটি ছিল প্রথম আলোচনা।
ইতিমধ্যে সিউল থেকে পিয়ংইয়ং এবং চীন সীমান্তের সিনুইজুতে যাওয়ার জন্য একটি রেললাইন বিদ্যমান রয়েছে। কোরীয় যুদ্ধের অনেক আগে বিশ শতকের গোড়ার দিকে জাপান এটি নির্মাণ করে।
দক্ষিণ কোরিয়া তার রেললাইন অনেক উন্নত ও আধুনিক মানের করলেও উত্তর কোরিয়ার রেললাইন অনেক পুরনো। নতুন প্রকল্পের আওতায় উত্তরের রেলপথের আধুনিকায়ন করে পিয়ংইয়ং ও সিউলকে নতুন করে সংযুক্ত করা হবে।
এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে চীন, রাশিয়ার ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলওয়ে ও ইউরোপকে।
১৯৫০ থেকে ৫৩ সাল পর্যন্ত দুই কোরিয়ার মধ্যে সংঘটিত হয় কোরীয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রত্যক্ষ সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। কোরীয় যুদ্ধের স্মরণে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ঘৃণা জানাতে মাসব্যাপী চালানো হয় প্রচারণা অনুষ্ঠান।
