সোস্যাল মিডিয়ার ‘আন্ডারএজ’ ব্যবহারকারীদের নিয়ে উদ্বেগ
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৮:৩১ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার
বিশ্বজুড়ে কিশোরদের মধ্যে বিষন্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এর সঙ্গে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের একটা যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন অনেক অভিভাবক ও মনোবিদ। শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ব্যাপকতা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আইন। কিন্তু সবসময় এ আইন মানা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। দেখা গেছে, আইনে নির্ধারিত বয়সসীমার চেয়ে কম বয়সী অনেকেই সোস্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়। ইনফ্লুয়েন্স সেন্ট্রালের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে। খবর সিএনবিসি।
সেন্ট্রাল ইনফ্লুয়েন্সের প্রতিবেদ অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে শিশুরা তাদের প্রথম স্মার্টফোনটি হাতে পায় গড়ে ১০ দশমিক ৩ বছর বয়সে। ১১ দশমিক ৪ বছর বয়সের মধ্যেই তারা প্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলে। আর বয়স ১২ বছর হতে না হতেই ৫০ শতাংশ শিশু অন্তত একটি সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার শুরু করে।
দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় অনেক শিশুই তাদের বয়স গোপন করে। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট কিংবা হালের জনপ্রিয় টিকটকের মতো সাইটগুলোয় অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রটেকশন অ্যাক্টের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ১৩ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলে বলে ইনফ্লুয়েন্স সেন্ট্রালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা নিশ্চিতভাবেই নিজেদের বয়স গোপন করে।
এক্ষেত্রে আইনগতভাবে সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোকে অভিযুক্ত করা যাবে না। কারণ যে টার্মস অব সার্ভিস মেনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়, তাতে বয়সসীমার বিষয়টি উল্লেখ থাকে। কিন্তু কোম্পানিগুলো কি আসলেই দায় এড়াতে পারে? কারণ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় অনেক ক্ষেত্রেই টার্মস অব সার্ভিসে উল্লিখিত শর্তগুলো চোখ এড়িয়ে যায়। এজন্য নির্ধারিত বয়সসীমা সম্পর্কে শিশুদের আলাদাভাবে জানানো প্রয়োজন। আর কোম্পানিগুলো এ দায়িত্বটি ভালোভাবেই এড়িয়ে যায়।
১৩ বছরের বয়সসীমা নির্ধারণ করেও যখন কাজ হচ্ছে না, তখন অভিভাবকদের প্রশ্ন— আইনে বয়সসীমা প্রকৃতপক্ষে কত হওয়া উচিত? আইনটির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দায়িত্বইবা কার?
