রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২   ২৬ রমজান ১৪৪৭

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়তে যাচ্ছে হুয়াওয়ে ও জেডটিই

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৩ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন বছরে একটি নির্বাহী আদেশ জারির কথা বিবেচনা করছেন। এ আদেশ জারি হলে মার্কিন কোম্পানিগুলো চীনভিত্তিক হুয়াওয়ে টেকনোলজিস কোম্পানি লিমিটেড এবং জেডটিই করপোরেশনের টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে রয়টার্স।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চীনের বৃহৎ দুই টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম নির্মাতা হুয়াওয়ে এবং জেডটিইর বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সম্ভাব্য নির্বাহী আদেশ জারির মূল উদ্দেশ্য— প্রতিষ্ঠান দুটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেয়া। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই হুয়াওয়ে এবং জেডটিইর টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে। দেশটির অভিযোগ— প্রতিষ্ঠান দুটির পণ্যের মাধ্যমে মার্কিনদের তথ্য চীন সরকারের হাতে যাচ্ছে।

মার্কিন টেলিযোগাযোগ শিল্প এবং প্রশাসন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, যে নির্বাহী আদেশের কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে আট মাস ধরেই কাজ করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এ আদেশ আগামী জানুয়ারি মাসে জারি করা হতে পারে, যা কার্যকর হলে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ দেশটির কোম্পানিগুলোকে বিদেশী যেকোনো কোম্পানির কাছ থেকে টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ক্রয়ে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে।

হুয়াওয়ে কিংবা জেডটিই কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য করা হয়নি। উভয় প্রতিষ্ঠানই তাদের পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নতুন নির্বাহী আদেশের বিষয়ে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স, কানাডা ও জাপানে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজির অবকাঠামো নির্মাণে হুয়াওয়ের সরঞ্জাম বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর পেছনে প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্ক সরঞ্জামে নিরাপত্তা ত্রুটির কথা বলা হলেও সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। হুয়াওয়ে এরই মধ্যে তাদের পণ্যে নিরাপত্তা ত্রুটি প্রমাণে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলোর প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

গত এপ্রিলে এক নির্বাহী আদেশে জেডটিই করপোরেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ। এতে বলা হয়েছিল, জেডটিইর কাছে কোনো ধরনের যন্ত্রাংশ কিংবা সফটওয়্যার বিক্রি করতে পারবে না মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। নিষেধাজ্ঞার কারণে তখন অস্তিত্ব সংকটে পড়ার দাবি জানিয়েছিল জেডটিই।

জেডটিই করপোরেশনের ওপর কেন ওই নিষেধাজ্ঞা? মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানে টেলিকম সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণেই জেডটিইর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরবর্তী সাত বছর জেডটিইর কাছে কোনো ধরনের যন্ত্রাংশ বা সফটওয়্যার বিক্রি না করতে বলা হয়। টেলিযোগাযোগ খাতের নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, হ্যান্ডসেট নির্মাতা এবং চিপ নির্মাতাদের মধ্যে এক ধরনের আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান। নেটওয়ার্ক ও হ্যান্ডসেট নির্মাতাদের বিভিন্ন চিপের জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়। কাজেই পর্যাপ্ত চিপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই সময় নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম খাতে আধিপত্য বিস্তার করে থাকা জেডটিইর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিবৃতিতে জেডটিই জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের এ অন্যায় নিষেধাজ্ঞা শুধু তাদের টিকে থাকা এবং উন্নয়নেই প্রভাব ফেলবে না, এ কারণে জেডটিইর বহু অংশীদারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জেডটিইর এসব অংশীদারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহু প্রতিষ্ঠান ছিল।

জেডটিইর দাবি ছিল, তারা বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি অনুসরণ করে ব্যবসা করে এসেছে। ব্যবসায় সৌহার্দ বজায় রাখতে গত বছর রফতানি নিয়ন্ত্রণ সম্মতি প্রকল্পে তারা ৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া চলতি বছর আরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

সর্বশেষ গত জুনে জেডটিই তাদের ওপর আরোপিত বিক্রয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী, জেডটিইকে শতকোটি ডলার জরিমানা পরিশোধ করতে হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মার্কিন আইন লঙ্ঘন করবে না তার জামানত হিসেবে ৪০ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়।