ফিরে দেখা ২০১৮ : উত্থান-পতনে শেষ হলো ভারতের ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৮:১১ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার
চলতি বছরটি শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। বছরের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে বড় অনুঘটক বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধ, ব্রেক্সিট ও প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি। এ ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ঘটে গেছে উত্থান-পতনের ঘটনা, প্রভাব পড়েছে আমদানি-রফতানিতে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে কেমন ছিল এ বছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। ব্যবসায়ীদের লাভ নাকি লোকসানের পাল্লা ভারী হলো?
চলতি বছর বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতি ভারতও উত্থান-পতনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে। দেশটির একদিকে রফতানি বেড়েছে, অন্যদিকে বাণিজ্য ঘাটতি সম্প্রসারণও অব্যাহত থেকেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশাল মন্দঋণ সমস্যা সমাধানে ব্যাংকিং খাতে যেমন বড় রদবদল ঘটিয়েছে, তেমনি বছরের শেষ প্রান্তে খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই বড় পরিবর্তন ঘটেছে। সব ধরণের পরিস্থিতি নিয়েই একটি বছর শেষ করল এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিটি। একনজরে দেখা যাক ভারতের অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা—
রফতানি প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্য ঘাটতি: বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্বকে নাড়িয়ে দিলেও ২০১৮ সালে রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে ভারত। তবে ক্রুড তেলের উচ্চমূল্য এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদা দ্রুততার সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি সম্প্রসারিত করে গেছে। ৫৬ মাসের সর্বোচ্চ মাসিক বাণিজ্য ঘাটতি দিয়ে ২০১৮ শুরু করে ভারত। অক্টোবর নাগাদ এ ঘাটতি ১৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে।
নতুন গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (জিএসটি) ব্যবস্থা প্রচলের সময় থেকেই দুর্বল মূলধন অপর্যাপ্ততা সত্ত্বেও বছরের অর্ধেক দুই অংকের রফতানি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। অন্যদিকে ক্রুড তেলের অস্থিতিশীল দামের কারণে আমদানি ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতীয় ব্যাংকগুলোর মন্দঋণ: চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ভারতীয় ব্যাংকগুলোর গড় নন-পারফর্মিং অ্যাসেটের (এনপিএ) পরিমাণ ১৪ হাজার ২৭৮ কোটি ডলার (১০ ট্রিলিয়ন রুপি) ছাড়িয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) ঋণের সঠিক তথ্য প্রকাশ করার জন্য চাপ দেয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের মন্দঋণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা ছিল না।
ফেব্রুয়ারিতে আরবিআইয়ের সার্কুলারের পর মন্দঋণের সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়। সার্কুলারে বলা হয়, ৯০ দিনের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করা না হলে তা খেলাপি ঘোষণা করে উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এর পরই মার্চ প্রান্তিকে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মন্দঋণের পরিমাণ বেড়ে ১৪ হাজার ৬৩৬ কোটি ডলারে (১০ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন রুপি) দাঁড়ায়।
সন্ধিক্ষণে করপোরেট ভারত: চলতি বছরটি করপোরেট ভারতের জন্য ছিল সন্ধিক্ষণের। আরবিআইয়ের ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংকরাপ্সি কোডের (আইবিসি) কল্যাণে বেশকিছু ভারতীয় টাইকুন তাদের কোম্পানি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন। আইবিসি আইনের অংশ হিসেবে সিংহভাগ বৃহৎ কোম্পানি ব্যবস্থাপনায় বদল আনতে বাধ্য হয়।
আরবিআইয়ের প্রথম তালিকায় ১২টি বৃহৎ কোম্পানির নাম প্রকাশ করা হয়, যেগুলোর ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার ৯২৫ কোটি ডলার (৩ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন রুপি)। এ তালিকায় এশার স্টিলের মতো উচ্চ প্রোফাইলের কোম্পানির নামও দেখা গেছে। দ্বিতীয় তালিকায় ২৭টি নন-পারফর্মিং অ্যাসেটের (এনপিএ) নাম প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যার মধ্যে স্বনামধন্য কোম্পানি ভিডিওকনও রয়েছে।
আরবিআইয়ে রদবদল: চলতি বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘিরে সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল আরবিআইয়ের স্বাধীনতায় সরকারের হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা এবং এর জেরে গভর্নর উরজিৎ প্যাটেলের আকস্মিক পদত্যাগ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রশাসনের সঙ্গে আরবিআইয়ের টানাপড়েন শুরু হয়। মূলধনের পরিমাণসহ আরো কিছু ইস্যুতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবাদ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের মাঝামাঝি ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান উরজিৎ প্যাটেল। অন্যদিকে এর মাত্র একদিন পরই আরবিআইয়ের দায়িত্ব বুঝে নেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শক্তিকান্ত দাস।
এছাড়া গ্রামীণ দুর্দশায় বিপর্যস্ত কৃষকদের কয়েক দফা আন্দোলন ও মূল্যস্ফীতি নিয়েও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে ভারতের অর্থনীতি।
