রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২   ২৬ রমজান ১৪৪৭

চীনের বাজার দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে গাড়ি বিক্রেতাদের

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৮ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার

চীনে গাড়ি বিক্রি করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্প-বিশ্লেষকরা বলছেন, গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি বাজার। জেনারেল মোটরসের (জিএম) মতো গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলো এ ঝড়ে টিকে থাকলেও ফোর্ডের ব্যবসায় ধস নেমেছে। খবর সিএনবিসি।

বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি বাজার চীনে ২০১৮ সালে ২ কোটি ৮০ লাখ গাড়ি বিক্রি হতে পারে। আইএইচএস মার্কিটের তথ্য অনুসারে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে ১ কোটি ৭০ লাখ গাড়ি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

চীনের গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলোর সংগঠন জানায়, ২০১৭ সালের নভেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে চীনে গাড়ি বিক্রি হ্রাস পেয়েছে ১৪ শতাংশ। অবশ্য গত জুলাই থেকেই গাড়ি বিক্রিতে মন্দাভাব লক্ষ করা যাচ্ছিল। তবে নভেম্বরে গাড়ি বিক্রির হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ছিল।

চীনে গাড়ি বিক্রেতা কোম্পানির পরামর্শক জোজোগোর প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডান বলেন, ‘স্মরণকালের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় শ্লথগতি। এ রকম শ্লথগতির নজির আছে ১৯৯৮-৯৯ সালের আর্থিক সংকটের সময়। তখন টানা চার মাস বা তার চেয়ে বেশি সময়ের জন্য গাড়ি বিক্রিতে শ্লথগতি ছিল।

অঞ্চলটিতে গাড়ি বিক্রিতে শ্লথগতির পেছেনে কয়েকটি অনুঘটক ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন ডান। এর মধ্যে অপ্রথাগত লেনদেনের ওপর চীন সরকারের চড়াও হওয়া। এর আগে চীনে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির (পিটুপি) এক ধরনের প্রথার চল ছিল। এতে চীনের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা কম ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ধার দিতে পারতেন। পিটুপি ঋণে চীনের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর হাতে নগদ অর্থ সমাগম বেড়েছিল। এতে গাড়ি শিল্পের জন্য চীন হয়ে দাঁড়িয়েছিল সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারমাণ বাজার। কিন্তু ২০১৮ সালের শুরুতে প্রায় ২৫ শতাংশ পিটুপি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত বা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানান ডান। এছাড়া অন্য তিন-চতুর্থাংশ কোম্পানির সামনেও হুঁশিয়ারি ঝুলছে। তারা আশঙ্কা করছে, পরবর্তী সময়ে তারা হবে সে পদক্ষেপের লক্ষ্যবস্তু। এ ব্যবসায় থাকা প্রত্যেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই খুবই সতর্ক থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছে, যা নগদ অর্থপ্রবাহের ধীরগতিতে ভূমিকা রাখছে।

তবে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির অর্থ আদান-প্রদানের এ প্রক্রিয়াটা কত প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছে, সে বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। জেডি পাওয়ার এশিয়া প্যাসিফিকের মহাব্যবস্থাপক জ্যাকব জর্জ বলেন, ‘নতুন গাড়ি বাজারে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির আর্থিক লেনদেনের অবদান খুবই সামান্য, ঋণ বাজারের তা মাত্র ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।

২০১৮ সালের আগ পর্যন্ত গাড়ি বাজারের অর্থায়নে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বড় কয়েকটি উৎস ছিল। কিন্তু কঠোর নীতিমালার কারণে বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে গাড়ি বিক্রিতে শ্লথগতির পেছনে চীনের ভোক্তাদের মানসিকতাও জড়িত বলে দাবি করেছেন ডান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা বাণিজ্যযুদ্ধে চীনের অর্থনীতিতে এমন শ্লথগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা নিকট অতীতে পর্যবেক্ষণ করেনি তারা।