রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২   ২৬ রমজান ১৪৪৭

যুক্তরাষ্ট্রে অনিশ্চয়তায় নিম্নমুখী চাপে ডলার ও শেয়ারবাজার

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৬ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার

এশিয়ার শেয়ারবাজারে বুধবার আরেক দফা দরপতন হয়েছে। শ্লথ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় গত সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে এ অস্থিরতা চলছে। শুধু শেয়ারবাজার নয়, চাপে রয়েছে ডলারও। যুক্তরাষ্ট্রে প্রশাসনিক কার্যক্রমে আংশিক অচলাবস্থা, হোয়াইট হাউজ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সম্পর্কে টানাপড়েনে গতকাল বেশির ভাগ মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মানও কমে যায়। খবর এএফপি ও রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রে আংশিক অচলাবস্থা এবং ফেড চেয়ারম্যানের প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈরী মনোভাব বিনিয়োগকারীদের বিচলিত করে তুলেছে। বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানিউচিন ‘প্লাঞ্জ প্রকেটশন টিম’-এর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সাধারণত বাজারে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এ দলের থেকে পরামর্শ নেয়া হয়। কিন্তু দেখা গেছে মানিউচিনের এ উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারেনি, উল্টো তারা আরো ভীত হয়ে পড়েছেন। যার প্রভাবে বুধবার শেয়ারবাজার আরো একধাপ পিছু হটেছে।

বুধবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচারস সূচক দশমিক ৬ শতাংশ হারায়। এটি বড়দিনের ছুটির পর শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়েই লেনদেন শুরুর আভাস দিচ্ছে। ছুটি উপলক্ষে বিশ্বের অনেক শেয়ারবাজারেই এখন লেনদেন বন্ধ। ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্সের শেয়ারবাজার বুধবারও বন্ধ ছিল।

শেয়ারবাজারের অপরিবর্তিত অস্থির পরিস্থিতিতেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অর্থমন্ত্রী মানিউচিনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি তার মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং মঙ্গলবার তিনি ফেডের আবারো সমালোচনা করে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক খুব দ্রুত সুদের হার বৃদ্ধি করে। বিদেশে অবস্থানরত সেনাদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ‘বিশ্বের মধ্যে সেরা’ এবং ক্রয় সক্ষমতায় সবচেয়ে এগিয়ে’। মানিউচিনের প্রতি তার আস্থা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অবশ্যই রয়েছে। তিনি খুবই গুণী এবং স্মার্ট ব্যক্তি।’ ট্রাম্প আরো বলেছেন, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে তহবিল না পাওয়া পর্যন্ত শাটডাউন চলবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর শেয়ারবাজার শান্ত হওয়ার পরিবর্তে আরো অস্থির হয়ে ওঠে। বুধবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে দরপতন আরো দীর্ঘায়িত হতে দেখা যায়। জাপান বাদে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমন্বিত সূচকটি বুধবার দশমিক ৫ শতাংশ হারিয়ে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পয়েন্টে নেমে আসে। এছাড়া সাংহাই কম্পোজিট ইনডেক্স দশমিক ৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কস্পি ১ দশমিক ৬ শতাংশ হারিয়েছে।

জাপানের নিক্কেইয়ে মঙ্গলবার ৫ শতাংশ পতন ঘটে। এছাড়া বুধবার প্রায় সারা দিনের লেনদেনেই সূচকটি ওঠানামার মধ্যে ছিল, যা এক পর্যায়ে ১ শতাংশ পতনের মাধ্যমে ২০ মাসের সর্বনিম্নে দাঁড়ায়। অবশ্য দশমিক ৯ শতাংশ যোগ হওয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল সূচকটির লেনদেন সমাপ্ত হয়।

সুমিতমো মিতসুই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ কৌশলী মাসাহিরু ইচিকাওয়া বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ ছাড়াও বিনিয়োগকারীরা এখন হোয়াইট হাউজের রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।’

যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথগতি নিয়ে উদ্বেগে ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইল্ড ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমে গেছে। যার প্রভাবে অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে ডলারের ওপর চাপ আরো বাড়ছে।

ব্যাংক অব সিঙ্গাপুরের মুদ্রাবাজার বিষয়ক কৌশলী সিম মোহ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যম ধরনের প্রবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ডলারের জন্য নেতিবাচক হয়ে উঠেছে। আমাদের ধারণা, মুদ্রাটির দুর্বলভাব অব্যাহত থাকবে। আমি আরো মনে করি, বৈশ্বিক এ ঝুঁকি থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে ইয়েন।’

সম্প্রতি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের সংগ্রাম বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ডলার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ স্বর্গ হিসেবে পরিচিত ইয়েনের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে টানা আটটি সেশনে ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মান পড়তে দেখা গেছে। বুধবার ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মান দশমিক ১ শতাংশ কমে ডলারপ্রতি ১১০ দশমিক ৪৩ ইয়েনে নামতে দেখা যায়। এছাড়া ইউরো, পাউন্ড ও অস্ট্রেলীয় ডলারের বিপরীতেও ডলার দুর্বল হয়ে পড়েছে।