বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ, আসন্ন নির্বাচনে অস্থির ইন্দোনেশিয়া
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৭:৪০ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার
চলতি বছরের বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনীতির উচ্চগতিশীলতা ২০১৮ সাল ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোর প্রশাসনের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জিং বছরে পরিণত করেছে। তবে ঘরে-বাইরের এ অস্থিরতার মধ্যেও বেশকিছু খাতে পুনরুদ্ধারের আভাস দেখা গেছে।
বাইরের দিক থেকে উন্নত অর্থনীতিগুলোর কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের ফলে উদ্ভূত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির বাণিজ্যযুদ্ধ এবং তেল ও ভোগ্যপণ্য মূল্যের অস্থিতিশীলতা ইন্দোনেশিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে রুপিয়াহর মান পুনরুদ্ধার হতে শুরু করলেও রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশ নষ্ট হতে পারে বলে ব্যবসাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে। বিশেষ করে আগামী বছর দেশটিতে আসন্ন প্রেসিডেন্সিয়াল ও আইনসভার নির্বাচন এ উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ উদ্বেগ ও উত্থান-পতন দিয়ে একটি বছর শেষ করল ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি।
সামষ্টিক অর্থনীতি: অন্যান্য উদীয়মান বাজারের মুদ্রার মতো ডলারের বিপরীতে রুপিয়াহর অবমূল্যায়ন ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল। বছরের শুরুতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তায় তা নেতিবাচক দিকে মোড় নেয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ১ ডলারের বিপরীতে রুপিয়াহর মান দাঁড়ায় ১৫ হাজার।
রুপিয়াহর অবমূল্যায়নের কারণে মুদ্রার মান স্থিতিশীল করতে চলতি বছর ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার (বিআই) সাতদিন মেয়াদি রিভার্স রেপো রেট ছয় দফা বাড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর পেরি ওয়ারজিয়ো। অন্যদিকে অস্থিতিশীল রুপিয়াহ সত্ত্বেও ২০১৮ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেট সংশোধন না করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
শেয়ারবাজার: ২০১৮ সালজুড়ে জাকার্তা কম্পোজিট ইনডেক্সের (জেসিআই) পারফরম্যান্সে উত্থান-পতন দেখা গেছে। এর অন্যতম কারণ ছিল চীন-যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বাণিজ্য উত্তেজনা এবং ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আগ্রাসী সুদহার বৃদ্ধি, যে কারণে ইন্দোনেশিয়াসহ উদীয়মান বাজারগুলো থেকে ব্যাপক বিনিয়োগ তুলে নেয়া হয়।
এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ইস্যুগুলো জেসিআইয়ের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে রফতানি পতন এবং রুপিয়াহর চাপের মুখে নভেম্বরে ২০৫ কোটি ডলারের বিস্তৃত বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, যা ২০১৩ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি। এসব নেতিবাচক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ মনোভাবের মধ্যে জেসিআই চলতি বছরের শুরুর প্রায় ৬ হাজার ৬০০ পয়েন্ট থেকে ৬ হাজার পয়েন্টে নেমে গেছে।
বাণিজ্য: বাণিজ্য ঘাটতি এবং সেসঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির মন্থরতার ফলে অর্থনীতির ভালো অবস্থা বজায় রাখতে সংগ্রাম করে যেতে হয়েছে দেশটিকে। স্ট্যাটিস্টিকস ইন্দোনেশিয়ার পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৮ সালের শুরু থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫২ কোটি ডলার। যেখানে ২০১৫, ’১৬ এবং ’১৭ সালে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৭৮৩ কোটি, ৮৪৮ কোটি ও ১ হাজার ২০৮ কোটি ডলার।
চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে রফতানি চাহিদার পতন এবং অধিক পরিমাণে ক্রুড তেল, কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য আমদানি এ ঘাটতির কারণ। এ ভারসাম্যহীনতা কমাতে বেশকিছু নীতিমালাও গ্রহণ করে দেশটির সরকার।
ম্যানুফ্যাকচারিং: চলতি বছর তেল ও গ্যাসবহির্ভূত শিল্প প্রবৃদ্ধিতে সামান্য উন্নতির আশা করছে ইন্দোনেশিয়ার শিল্প মন্ত্রণালয়। গত বছরের ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় চলতি বছর ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে। এছাড়া চলতি বছর শেষে খাতটি সামগ্রিক রফতানির ৭২ শতাংশে অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা করছে মন্ত্রণালয়। তবে গত বছরের ২০ দশমিক ১৬ শতাংশের তুলনায় চলতি বছর জিডিপিতে খাতটির অবদান কিছুটা কমে ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগ: অব্যাহত বৈশ্বিক ও স্থানীয় অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছর প্রায় ৩ হাজার ৬৭২ কোটি ডলার (৫৩৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ) বিনিয়োগ হয়েছে দেশটিতে।
এছাড়া চলতি বছর একের পর এক ভূমিকম্প ও সুনামি দেশটির পর্যটন শিল্পকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পর্যটন রাজস্ব কমার পাশাপাশি ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে দেশটি।
