রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২   ২৬ রমজান ১৪৪৭

ওয়াল স্ট্রিটকে অনুসরণ করে ঘুরে দাঁড়াল বৈশ্বিক শেয়ারবাজার

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৩৭ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির কিছু ইতিবাচক খবর এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া প্রচেষ্টায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে বরখাস্ত করা হবে না— হোয়াইট হাউজের এমন আশ্বাসে বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটে নয় বছরের সেরা পারফরম্যান্স দেখা যায়। ওয়াল স্ট্রিটের এ হাওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। খবর রয়টার্স, এএফপি ও সিনহুয়া।

বুধবার প্রথমবারের মতো একদিনে ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচকটিতে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ পয়েন্ট যোগ হতে দেখা যায়। এর প্রভাবে সাম্প্রতিক ধাক্কা সামলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব কয়টি শেয়ারসূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, চাঙ্গা হয়ে ওঠে এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারও। এর মধ্যে জাপান বাদে এশিয়া-প্যাসিফিকের সমন্বিত সূচক এমএসসিআইয়ে আট সপ্তাহের নিম্নমুখিতা কাটিয়ে যোগ হয় দশমিক ৮ শতাংশ।

এশিয়ার শেয়ারসূচকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে জাপানের নিক্কেইয়ে। গত মঙ্গলবার সূচকটি মন্দ বাজারে প্রবেশ করে। প্রায় ৪ শতাংশ (৩ দশমিক ৮ শতাংশ) যোগ হওয়ার মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সূচকটি সে ধাক্কা সামলে ওঠে। এছাড়া মধ্যদিনের লেনদেনে সিঙ্গাপুর ১ দশমিক ৪ শতাংশ, তাইওয়ান ১ দশমিক ৭ ও ব্যাংককের সূচকে দশমিক ৮ শতাংশ যোগ হতে দেখা যায়। আর ১ দশমিক ৯ শতাংশ যোগ হওয়ার মাধ্যমে সিডনির লেনদেন সম্পন্ন হয়। তবে শিল্প খাতে দুর্বল মুনাফার খবরে চীনের শেয়ারসূচকগুলো নিম্নমুখী ছিল।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বাজার ১ দশমিক ৬ শতাংশ চাঙ্গা হতে দেখা যায়। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুর লেনদেনেই লন্ডন ও প্যারিসও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এর মধ্যে লন্ডনের এফটিএসই১০০ দশমিক ৪ শতাংশ, প্যারিসের সিএসি ৪০ প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ যোগ করে।

মূলত হোয়াইট হাউজ থেকে ফেডপ্রধান বরখাস্ত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতের পাশাপাশি শক্তিশালী খুচরা বিক্রির খবরে বড়দিন-পরবর্তী লেনদেনে প্রাণ ফিরে আসে ওয়াল স্ট্রিটে। এছাড়া বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনার জন্য জানুয়ারির শুরুর দিকে মার্কিন প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা বেইজিং সফর করবেন, এমন খবরও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ৯০ দিনের শুল্ক বিরতিতে সম্মত হওয়ার পর এটিই হবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।

মাস্টারকার্ডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্সব মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। থ্যাংকসগিভিং থেকে শুরু করে বড়দিন— টানা এ উত্সবের সময়টিতে ক্রেতারা ব্যাপক কেনাকাটা করেছেন। ফলে ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক খুচরা বিক্রি ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় অনলাইনে বিক্রি বেড়েছে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ।

মিঝুহু সিকিউরিটিজের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক নোটে বলা হয়, ‘নতুন বছরের আগে ঝুঁকি কমবে না, এমনটাও সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন টোকিও ও নিউইয়র্কের ঊর্ধ্বগতিকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। আমরা এখন নতুন বছরকে কিছুটা হলেও উত্ফুল্ল মনোভাব নিয়ে দেখতে পারি।’

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তির আভাস দেখা গেলেও এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। ওয়ান্ডার স্টিফেন ইনস বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে এখনই এতটা স্বস্তি পাওয়া যাবে না।’