রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২   ২৬ রমজান ১৪৪৭

শিল্প মুনাফার পতনে চাপের মুখে চীনা অর্থনীতি

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৩৬ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার

অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক চাহিদার ধীরগতির ফলে নভেম্বরে চীনের শিল্প আয় গত প্রায় তিন বছরে প্রথম হ্রাস পেয়েছে। ফলে ২০১৯ সালে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্ অর্থনীতি চীন। খবর রয়টার্স।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে চীনের বিশাল ম্যানুফ্যাকচারিং খাত চাপের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে সামনের কঠিন বছরের কথা মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত উপাত্ত থেকে আশঙ্কা করা হয়, সামনের দিনগুলোয় চীনের অর্থনীতির গতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস প্রকাশিত উপাত্ত অনুযায়ী, গত নভেম্বরে দেশটির শিল্প মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৬৩৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা কিনা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথম পতন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর মুখপাত্র হে পিং জানান, বিক্রয় প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং উৎপাদন মূল্য ও ব্যয় বৃদ্ধির ফলেই মূলত মুনাফার পতন হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা অনুমান করছেন, চাহিদার ধীরগতির ফলে শিল্প পণ্য থেকে মুনাফা সামান্য পরিমাণে বাড়বে এবং একই সঙ্গে মূল্য সংকোচনের ঝুঁকি থাকায় সামনের বছরও শিল্প আয়ের অবনতি ঘটতে পারে।

সাংহাইভিত্তিক হুয়াবাও ট্রাস্টের বিশ্লেষক নি ওয়েন জানান, নমনীয় অর্থনৈতিক সূচক যেমন উৎপাদন মূল্য, শিল্প উৎপাদন এবং ক্রয়াদেশের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে করপোরেট মুনাফা চাপের মুখে আছে। তাছাড়া চাহিদা সংকুচিত হওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিল্প মুনাফা আগামী বছর গড়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পতনের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নভেম্বরে চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ধীরগতির ফলে কারখানা মূল্যের প্রবৃদ্ধি গত দুই বছরে সবচেয়ে ধীরগতিতে বেড়েছে। হেনানভিত্তিক তিয়ানমিং গ্রুপের চেয়ারম্যান জিয়াং মিং রয়টার্সকে জানান, আগামী বছর টিকে থাকাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা আমাদের বিনিয়োগের ব্যাপারে আরো সতর্ক হব। তাছাড়া আমাদের নগদ প্রবাহ আরো বাড়াতে হবে এবং সঞ্চয় বাড়ানোর মাধ্যমে সামনের কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

চীনের অর্থনীতি গত প্রান্তিকে বছরওয়ারি হিসেবে সবচেয়ে ধীরগতিতে সম্প্রসারিত হয়েছে। বছরব্যাপী ডিলিভারেজিং কর্মসূচি, আবাসন বাজারের ধীরগতি এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের ফলেই দেশটির অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, সামনের বছর সম্প্রসারণের গতি আরো কমবে।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকেই চীনের শিল্প খাতের আয় প্রবৃদ্ধি ধীরগতিতে বাড়ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান সংকটকেই এর জন্য দায়ী করেছেন অনেকে। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের ফলেও সামগ্রিক উৎপাদন এবং চাহিদা চাপের মুখে পড়েছে।

চীনের চলতি বছরের শিল্প খাতের প্রথম ১১ মাসের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। তবে জানুয়ারি থেকে অক্টোবরে এ খাতটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রথম ১১ মাসে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় প্রবৃদ্ধিও ধীরগতিতে বেড়েছে।

চীনের ঊর্ধ্বমুখী খাতগুলোর মধ্যে তেল উত্তোলন, কয়লা ও ধাতব খনিজ আহরণ খাত চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে। তবে এ খাতগুলোর প্রবৃদ্ধিও নভেম্বরে নমনীয় হয়ে এসেছে।

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর জন্য চীন সরকার এরই মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি মাসে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্মেলনে দেশটির শীর্ষ নেতারা জানান, ২০১৯ সালের সংকট মোকাবেলার জন্য কর কর্তন এবং তারল্য বাড়ানোসহ সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ নেতারা।

চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ৯০ দিনের একটি বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। তবে দুই পক্ষ তাদের মধ্যে অসংখ্য ইস্যুর মীমাংসা করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে এখনো রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা।