ট্রাম্পের সফরে ইরাকের আইনপ্রণেতাদের তীব্র নিন্দা
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৫:২৭ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ইরাক সফরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির রাজনৈতিক ও মিলিশিয়া নেতারা। বুধবারের এ সফরকে তারা ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হিসেবে তুলে ধরেছেন। দেশটির আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদির সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনাটি কোথায় হবে, তা নিয়ে মতভেদের কারণে নির্ধারিত বৈঠকটিও বাতিল করা হয়। খবর রয়টার্স।
ইরাকের ইসলাহ পার্লামেন্টারি ব্লকের নেতা সাবাহ আল সাদি পার্লামেন্টের জরুরি বৈঠক আহ্বান করে বলেন, ‘মূলত ইরাকের সার্বভৌমত্বের স্থূল লঙ্ঘন এবং ট্রাম্পের এসব আগ্রাসী কার্যক্রম বন্ধে আলোচনা করতেই তিনি এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। যার নিজের সীমা সম্পর্কে জানা উচিত, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারিত্বের দিন শেষ।’
পার্লামেন্টে ইসলাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিনা ব্লকের প্রধান মিলিশিয়া নেতা হাদি আল-আমিরিও ট্রাম্পের ইরাক সফর নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। বিনার পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্পের এ সফর কূটনৈতিক নিয়ম-নীতিমালার ঘোরতর ও পরিষ্কার লঙ্ঘন। এর মধ্য দিয়ে ইরাক সরকারের প্রতি অশ্রদ্ধা ও শত্রুতামূলক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।’
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আব্দুল মাহদির কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের সফর সম্পর্কে ইরাকি কর্তৃপক্ষকে আগেই অবহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের কথা থাকলেও স্থান নিয়ে মতভেদের কারণে তা আর শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে তাদের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। ইরাকের আইনপ্রণেতারাও রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পরিকল্পিত বৈঠকটি কোথায় হবে, তা নিয়ে দুজনের মতের মিল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এটি বাতিল করা হয়। ট্রাম্প আইন আল-আসাদ সামরিক ঘাঁটিতে বৈঠকটি করতে চাইছিলেন। কিন্তু এতে মাহদির সম্মতি ছিল না।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান টানাপড়েনের মধ্যেই ট্রাম্প ইরাক সফর করলেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব প্রতিহত করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে ইরাকের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এ মুহূর্তে স্বাভাবিক নয়। দেশটির পার্লামেন্টের ইসলাহ ও বিনা ব্লকের মধ্যে দ্বন্দ্বে দেশটির সরকার গঠন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। মিলিশিয়া নেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বিনার সমর্থক ফালিহ খাজালি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, দেশটি ইরাকে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে চাইছে। তিনি বলেন, ‘ইরাকে আমেরিকার নেতৃত্বের পরাজয় ঘটেছে এবং এখানে তারা আবার যে কোনো অজুহাতে ফিরে আসতে চাইছে। তবে আমরা এটি আর বরদাশত করব না।’
বিনার পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সফর ‘ইরাকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি এবং তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করছে। তাদের উদ্দেশ্য ইরাকের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক কিনা সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠছে।’
উল্লেখ্য, গত বছর ইরাকে ইসলামিক জঙ্গি আইএস পরাজিত হওয়ার পর থেকে ইরাকে বড় ধরনের কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও জঙ্গি দলগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ইরাকি সেনাদের প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ দেয়ার জন্য দেশটিতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মার্কিন সেনা এখনো অবস্থান করছে।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সাদ্দাম হোসেনকে উত্খাতের পর থেকেই ইরাকে মার্কিন সেনা নিয়োজিত রয়েছে। এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছে পার্লামেন্টের আরেক ব্লক ইসলাহর প্রধান জনপ্রিয় শিয়া নেতা মোকতাদা আল সদর।
ইরাকের সাধারণ মানুষও ট্রাম্পের সফরে সন্তুষ্ট নন। বাগদাদের বাসিন্দা মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা আমেরিকা থেকে কিছুই পাইনি। তারা ইরাকে ১৬ বছর ধরে অবস্থান করছে এবং তারা দেশটিকে বিনাশ ও ধ্বংস ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি।’
