রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২   ২৬ রমজান ১৪৪৭

বাণিজ্যিকভাবে তিমি শিকারের ঘোষণা জাপানের

নিউজ ডেক্স

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:২৭ এএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার

আন্তর্জাতিক সমালোচনা সত্ত্বেও জাপান জানিয়েছে, আসছে জুলাই থেকে দেশটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নতুন করে তিমি শিকার শুরু করতে যাচ্ছে। এ জন্য তিমি সংরক্ষণ-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইডব্লিউসি থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে যাচ্ছে জাপান। খবর বিবিসির।

কয়েক প্রজাতির তিমি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ১৯৮৬ সালে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তিমি শিকার নিষিদ্ধ করে আইডব্লিউসি। তবে ১৯৫১ সাল থেকে এই সংস্থার সদস্য জাপান বলছে, তিমি মাছ খাওয়া দেশটির সংস্কৃতির অংশ।

অনেক বছর ধরে জাপান তিমি শিকার করে আসছে, যা ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণা’র কাজে ব্যবহার হয় এবং পরে সে মাছ বিক্রি করা হয় বাজারে। এই কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করে আসছেন সংরক্ষণবাদীরা।

এখন নতুন এই ঘোষণার মানে হলো, জাপান এখন বিলুপ্তপ্রায় মিংক প্রজাতির তিমিসহ সব ধরনের তিমি মাছ শিকার করতে পারবে। তবে সংরক্ষণবাদীরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, জাপানকে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিহিদে সুগা জানায়, তিমি শিকার জাপানের জলসীমা এবং দেশটির অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহের মধ্যে সীমিত রাখা হবে। যে কারণে অ্যান্টার্কটিকা জলসীমা ও দক্ষিণে তিমি শিকার বন্ধ করে দেবে জাপান। এ সিদ্ধান্তকে সংরক্ষণবাদীরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, জাপানের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাণিজ্যিকভাবে তিমি শিকারের টেকসই একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার ব্যপারে তত আগ্রহী ছিল না আইডব্লিউসি।
জাপানের অভিযোগ, আইডব্লিউসি কেবল সংখ্যায় তিমি মাছ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করতে উৎসাহী।

জাপানের উপকূলীয় এলাকার বহু জনগোষ্ঠী শত শত বছর ধরে তিমি মাছ শিকার করে আসছে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটিতে তিমি মাছের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। কারণ সে সময় দেশটির মাংসের প্রধান উৎস ছিল তিমি মাছ। এই মুহূর্তে জাপানে যত মাংস বিক্রি হয়, তার মধ্যে তিমির মাংস দশমিক ১ শতাংশ বলে জানাচ্ছে দেশটির একটি প্রধান সংবাদপত্র।

এক যৌথ বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানায়, জাপানের এই সিদ্ধান্তে দেশটি খুবই ‘আশাহত’ হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া সব সময়ই সব ধরনের তিমি শিকারের বিপক্ষে অবস্থান নেবে, তা সে বাণিজ্যিক বা ‘বৈজ্ঞানিক’ যে উদ্দেশ্যেই শিকার করা হোক। তবে জাপান এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়ার আগেই দেশটি এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশবাদী একটি সংগঠন হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল এই ঘোষণার কঠোর সমালোচনা করে বলেছিল, জাপান আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করছে। গ্রিনপিস জাপান নামের আরেকটি পরিবেশবাদী সংগঠন জানায়, তারা সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাবে।