৭২ হাজার টন হীরার শহর
নিউজ ডেক্স
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৬:২৩ এএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার
একটা আস্ত শহর। আর তার মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে রাশি রাশি হীরা। কোথায় সেই শহর? কীভাবেই-বা এত হীরা এল এই শহরে? এই হীরাগুলো প্রতিটি বাড়িতেই লুকানো রয়েছে। কিন্তু তা এতই সূক্ষ্ম যে বোঝা যাচ্ছে না। ব্যাপারটা ঠিক কী বলুন তো?
জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশের নর্ডলিনজেনে রয়েছে এই হীরা। কিন্তু এই হীরা যে শুধু রত্ন হিসেবে জরুরি, তা নয়। এই হীরার গুরুত্ব অন্য দিকে। প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৫ কিলোমিটার বেগে এক গ্রহাণু আছড়ে পড়েছিল পৃথিবীর বুকে। সেই গ্রহাণুর সঙ্গে ভূপৃষ্ঠের সংঘর্ষ হয়। এর ফলে যে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছিল জার্মানির এই জায়গায়, তা এই গোটা শহরটারই সমান। এভাবেই শহরটার উৎপত্তি।
এই বিস্ফোরণে সৃষ্ট মারাত্মক চাপ ও তাপের ফলে ‘কোর্স-গ্রেইন্ড’ পাথর সুয়েভাইট তৈরি হয়েছিল। এতে থাকে কাচ, কার্বন কেলাস ও হীরা। সংঘর্ষের পর এই হীরাই ছড়িয়ে পড়েছিল এই শহরে। কিন্তু তা এতটাই সূক্ষ্ম যে সেগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। ষাটের দশকে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেন, এই হীরা গ্রহাণু থেকেই এসেছে।
৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে এই শহরের বাসিন্দারা সুয়েভাইট দিয়ে বাড়ি তৈরি করেন। গির্জা থেকে সাধারণ বাড়ি, সবই তৈরি হয় এই হীরার পাথর দিয়ে। এই সময় থেকেই বসতি গড়ে ওঠে এই শহরে। যেহেতু নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে সূক্ষ্ম হীরার কুচি লুকিয়ে রয়েছে, তাই প্রতিটি বাড়িও তো এক অর্থে হীরার বাড়ি। প্রায় ৭২ হাজার টন হীরা রয়েছে এই শহরের বাড়ির নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে।
‘হাই ক্যারেট’ বাড়িগুলো নিয়ে তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিশেষ গর্ব রয়েছে। বাড়ির মধ্যেই যে রয়েছে হীরা। খুব সূক্ষ্ম এই হীরার কণা, প্রায় ০.২২ মিমি ব্যাস। এত ঘন ও সূক্ষ্ম হলেও এই হীরা তো ব্যবহার করা যায় না। তবে পর্যটকদের মধ্যে এই হীরার বাড়ির শহর নিয়ে আগ্রহ তো রয়েছেই।
স্থানীয় রাইস ক্রেটার মিউজিয়ামে ঘটনাটি নিয়ে বেশ কিছু দ্রষ্টব্য ও নিদর্শন রয়েছে। বিশ্বের নানা দেশ থেকে উৎসুক মানুষের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো।
