অস্ত্রোপচারের পুরো সময় ধর্মগ্রন্থ পাঠ করলেন রোগী
নিউজ ডেক্স
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৪:২০ এএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার
অস্ত্রোপচারের সময়ে গিটার বাজানো কিংবা রোগীর গান শোনার কথা শোনা গেছে আগে। তবে এবার শোনা গেল অস্ত্রোপচারের সময় আরেকটি বিচিত্র ঘটনার কথা। সাধারণত যিনি অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচারের জন্য যান তার আত্মীয়-স্বজনরাই উৎকণ্ঠার সঙ্গে সেই রোগীর মঙ্গল কামনায় ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেন অপারেশন থিয়েটারের বাইরে থেকে। কিন্তু এবার ব্রেন টিউমার অপারেশনের সময়ে রোগী নিজেই টানা ৩ ঘন্টা নিজ ধর্মগ্রন্থ থেকে হনুমান চালিসা পাঠ করলেন। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের জয়পুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে।
বিকানিরের দুঙ্গরগড়ের বাসিন্দা ৩০ বছরের এক যুবক ব্রেন টিউমারে ভূগছিলেন কিছুদিন যাবৎ। অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকরা জানান, জ্ঞান থাকা অবস্থাতেই রোগীর অস্ত্রোপচার করবেন তারা। চিকিৎসকদের এই প্রস্তাবে তখন কিছুটা ঘাবড়েই গিয়েছিলেন সেই যুবক। কিন্তু চিকিৎসকরা যখন জানান এভাবে অস্ত্রোপচার করলে তার কথা বলার শক্তি নষ্ট হবে না তখন তিনি রাজী হন এমন অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিতে। পরে তাকে শুধুমাত্র লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে নিউরো সার্জারির এক সিনিয়র কনসালট্যান্ট জানান, ‘ রোগীর ব্রেনের যে অংশে টিউমার হয়েছিল সেই অংশ মানুষের মানুষের কথা বলা নিয়ন্ত্রন করে। তাই এই অস্ত্রোপচার খুবই জটিল ছিল। এ কারণে তাকে সজাগ রেখে আমরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিই। কোনও অংশের সামান্যতন ক্ষতি হলেও ওর কথা বলার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারত।টানা তিন ঘন্টা উনি হনুমান চালিসা পাঠ করে গিয়েছেন। তার কথা বলার সময় যদি সামান্য অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ত তাহলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই ক্ষতি ঠিক করে দিতাম । বিড়বিড় করে ধর্মগ্রন্থ পাঠ রোগীর ব্রেনকে পুরোপুরি সজাগ রাখতে সাহায্য করেছে। এ কারণে আমরাও সফলভাবে অস্ত্রোপচার করতে পেরেছি।’ চিকিৎসকরা যে পদ্ধতিকে এই অস্ত্রোপচার করেছেন ইংরেজীতে তাকে ‘এয়াক ক্রানিয়োটোমি’ বলা হয়।
জানা যায়, ওই রোগী তিন মাস ধরে ব্রেন টিউমারে ভূগছিলেন। তার টিউমারটি গ্রেড টু পর্যায়ে ছিল।
অস্ত্রোপচারের এই ঘটনাটি নভেম্বরের ১৪ তারিখে হয়। কিন্তু একমাস পরে এমআরআই করার পরে নিশ্চিত হয়ে অস্ত্রোপচারের এই ঘটনা প্রকাশ করা হয়। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
