মঙ্গলবার   ১৯ মে ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪৩৩   ০২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

হেরে সিরিজ খোয়াল বাংলাদেশ

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৩:৩৮ পিএম, ২৯ জুলাই ২০১৯ সোমবার

বাংলাদেশের দেওয়া মামুলি টার্গেট সহজেই পেড়িয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়লাভ করলো শ্রীলংকা। একইসঙ্গে নিশ্চিত করল সিরিজ। বাংলাদেশের দেওয়া ২৩৯ রানের লক্ষ্য ৫.২ ওভার ও ৩ উইকেট হাতে রেখেই টপকে যায় লংকানরা।

লংকানদের হয়ে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন আভিস্কা ফার্নান্ডো ও দিমুথ করুনারত্নে। শুরু থেকেই দেখে খেলতে থাকেন দুজন। ঝড়ো শুরু না হলেও রানের চাকা সচল রেখে খেলতে থাকেন তারা। কোন উইকেট না হারিয়েই দলীয় অর্ধশতক পুরণ করে শ্রীলংকা।

১২তম ওভারে মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে প্রথম উইকেট পতন হয় লংকানদের। ১৫ রান করে ফেরেন দিমুথ করুনারত্নে। অপরপ্রান্তে অর্ধশতক তুলে নেন আভিস্কা ফার্নান্ডো। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগালেও ৮২ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। আভিস্কাকে ফেরানোর পর ৩০ রান করা কুশল পেরেরাকেও ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান।

 

 

তবে এরপর আর বিপর্যয় ঘটতে দেননি লংকান ব্যাটসম্যানরা। এঞ্জেলো ম্যাথিউস ও কুশল মেন্ডিস দুজন মিলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ম্যাচশেষে তারা অপরাজিত থাকেন যথাক্রমে ৫২ ও ৪১ রানে।

বোলিংয়ে এ ম্যাচেও হতাশার গল্প ছাড়া কিছু নেই। মুস্তাফিজ ২ টি ও মিরাজ ১টি ছাড়া আর কেউ উইকেট শিকার করতে পারেননি।

 

রোববার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে খেলতে নামে টাইগাররা। দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস উদ্বোধন করতে অধিনায়ক তামিমের সঙ্গে নামেন সৌম্য সরকার।

শুরু থেকে দেখে খেলতে থাকেন দুই ওপেনার। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বিপদে পড়তে পারতেন তামিম। বোলার লেগ বিফোরের আবেদন করলেও ইনসাইড এজের কারনে বেঁচে যান তিনি।

তবে আরও একবার দলকে হতাশ করলেন সৌম্য সরকার। নুয়ান প্রদীপের ভেতরে ঢোকা লোয়ার ফুলটসে লেগ বিফোর হয়ে আউট হলেন বাঁহাতি এ ওপেনিং ব্যাটসম্যান। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে করেন ১১ রান। সৌম্যের বিদায়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তামিমও। উদানার বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হওয়ার আগে তামিম ৩১ রান করেন।

এরপর মুশফিকের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন মোহাম্মদ মিথুন। আকিলা ধনঞ্জয়ের বলে কুশল মেন্ডিসের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন তিনি। এর আগে ১২ রান করেন ব্যাচিং অর্ডারে উপরে নামা মিথুন। রিয়াদ-সাব্বিরও পারেননি দলকে এগিয়ে নিতে। ৬ রানে আকিলার বলে বোল্ড হন রিয়াদ। আগের ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলা সাব্বির ১১ রান করতেই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। তারপর ২৭ বলে ১৩ রান করে ফিরেন সৈকত।

 

একের পর এক উইকেট হারিয়ে মহা বিপর্যয়ে পড়ে টিম বাংলাদেশ। দুশো রান পেরুতে পারবে কি না এমন শঙ্কার মধ্যে হাল ধরে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন মুশফিক। ৭১ বলে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূরণ করেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। এর আগে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ছয় হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন মুশফিকুর রহিম। তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের পর তৃতীয় বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান হিসেবে এ রেকর্ডে নাম লেখালেন তিনি।

১১৭ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে মুশফিককে যোগ্য সঙ্গ দেন মিরাজ। দুজনের জুটিতে আর কোনো অঘটন ছাড়াই ২০০ রান পার করে টাইগাররা। দুজনের ৮৪ রানের জুটি ভাঙ্গে মিরাজ ৪৩ রানে আউট হয়ে গেলে।

মুশফিক ম্যাচ শেষে অপরাজিত থাকেন ৯৮ রানে। এর আগে তাইজুল ৩ রানে রান আউট হন।

লংকানদের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন উদানা, প্রদীপ ও আকিলা ধনঞ্জয়।

লংকানদের বিপক্ষে হারায় এ নিয়ে টানা ৪ ম্যাচে হারের মুখ দেখলো বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে ৩১ জুলাই শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে টাইগাররা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ২৩৮/৮ (৫০ ওভার)

মুশফিক ৯৮, মিরাজ ৪৩

আকিলা ৩৯/২, উদানা ৫৮/২

 

শ্রীলংকা ২৪২/৩ (৪৪.৪ ওভার)

আভিস্কা  ৮২, ম্যাথিউস ৫২

মুস্তাফিজ ৫০/২, মিরাজ ৫১/১