শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করলেন সাংবাদিক
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৮:৫৩ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার
জীবনমানের দুরবস্থা এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে বিপ্লবের ডাক দিয়ে তিউনিশায়ায় নিজ শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন দেশটির এক সাংবাদিক। আত্মহত্যাকারী এ সাংবাদিকের নাম আব্দেরাজাক জরগুই৷ আর এই মৃত্যুকে ঘিরে দেশটির কাসেরাইন প্রদেশে দু’দিন ধরে চলছে তীব্র আন্দোলন, যা ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে৷
দেশটির বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে বিক্ষোভকারীদের৷ এতে বিক্ষুব্ধ যুবকরা গাড়ির টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবাদ জানায়৷ এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়৷ সংঘর্ষে অন্তত ছয় জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে৷
আব্দেরাজাক জরগুই নিজের গায়ে আগুন দেয়ার আগে অনলাইনে একটি ভিডিও পোস্ট করেন৷ সেখানে তিনি দেশে বেকারত্ব, দারিদ্র্তা ও দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ খবর ডয়চে ভেলে’র।
ভিডিওতে তিনি বলেন, কাসেরাইনের সন্তানরা অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। তাদের জন্য আজ আমি একটি বিপ্লবের সূচনা করছি৷ আমি নিজের গায়ে আগুন দিচ্ছি৷
শরীরে আগুন লাগানোর পর ওই সাংবাদিককে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেই তিনি মারা যান৷

এদিকে মঙ্গলবার জগরুইয়ের শেষকৃত্যের পর আবার সংঘর্ষ শুরু হয় রাজধানী তিউনিস থেকে ২৭০ কিলোমিটার দূরের শহরটিতে৷ কাসেরাইনের প্রধান সড়কে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ৷
ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব তিউনিশিয়ান জার্নালিস্টস বলছে, সামাজিক দুরবস্থার প্রতিবাদ ও হতাশায় জরগুই মৃত্যুবরণ করেছেন৷ আমরা এ ঘটনায় ধর্মঘটে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি৷
জরগুইয়ের এই আত্মহত্যা মোহামেদ বোয়াজিজের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়৷ আট বছর আগে এই সবজি বিক্রেতা শোষণ, বেকারত্ব ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করে একইভাবে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন৷
বোয়াজিজের মৃত্যুতে তিউনিশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আরব বসন্তের সূত্রপাত হয়৷ তিউনিশিয়ায় দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক জাইন এল আবেদিন বেন আলীর পতন ঘটে৷
স্বৈরতন্ত্রের পতনের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলেও অর্থনীতির নিম্ন প্রবৃদ্ধি, দুর্নীতি, নিম্ন জীবনমান এবং আল কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় উপস্থিতি টিউনিশিয়াকে এখনো জর্জরিত করে রেখেছে৷
