রীতিভঙ্গ করে ট্রাম্পের আচমকা সফর, উত্তাল ইরাক
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৩:২৯ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার
মার্কিন ইতিহাসের রীতিভঙ্গ করে এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট যুদ্ধরত দেশে সফর করলেন, তাও আবার দেশটির সরকার যখন মেক্সিকোর সীমান্ত দেয়াল তৈরির তহবিল দ্বন্দ্বে প্রায় অচল। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) বড়দিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে উড়াল দেয়।
সমালোচনায় ক্ষত বিক্ষত ট্রাম্পের দুনিয়াকে বিস্মিত করা এমন পদক্ষেপে চটে গেছে ইরাকি রাজনীতিবিদ ও মিলিশিয়া নেতারা। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের অঘোষিত সফরকে তাদের দেশটির সার্বভৌমত্বের অবমাননা বলে ট্রাম্পের নিন্দা জানিয়েছেন। 'আল-জাজিরা'
মার্কিন বাহিনীর নিকট এক চমক সফরের জন্য ট্রাম্প ও মেলানিয়া ওয়াশিংটন থেকে সরাসরি বিমানযোগে বাগদাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেন। সেখানে উপস্থিত মার্কিন বাহিনীকে তিনি তাদের সেবার জন্য ধন্যবাদ জানান।
তবে এমন ঘটনায় ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘণ হয়েছে বলে পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন দাবি করেছেন শিয়াপন্থি ইসলাহ পার্লামেন্টারি ব্লকের নেতা সাবাহ আল সাদি। এ ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ভয়ানক লঙ্ঘন এবং আগ্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করতে পার্লামেন্টকে আলোচনার আহ্বান জানান এ রাজনীতিক।
দেশটিতে মার্কিন আগ্রাসনবিরোধী শিয়া নেতা মুক্তাদা আল সদরের নেতৃত্বাধীন ইসলাহ পার্টির হয়ে পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করছেন সাবাহ আল সাদি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অঘোষিত সফরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ট্রাম্পকে তার নিজের সীমারেখা সম্পর্কে জানা উচিত। ইরাকে মার্কিন দখলদারিত্বের অবসান হয়েছে।
শিয়া নেতা মুক্তাদা আল সদর ২০১১ সাল পর্যন্ত মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সহিংস আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে তিনি ইরাকি জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ফেরেন। তার জোটে কমিউনিস্ট ও অসাম্প্রদায়িক ইরাকিদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তারা ইরাকে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তা যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান যেই হোক।
ইসলাহ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া নেতা হাদি আল-আমিরি'র নেতৃত্বাধীন বিনা ব্লকের পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের এ সফর নিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানানো হয়েছে। বিনা ব্লকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এ সফর কূটনৈতিক রীতিনীতির সুস্পষ্ট ও ভয়াবহ লঙ্ঘন। এর মধ্য দিয়ে তিনি ইরাক সরকারের প্রতি তাচ্ছিল্য দেখিয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদের সঙ্গে মিলিত হতে অনির্ধারিত এক সফরে বুধবার ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে ইরাকে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বড়দিন উপলক্ষে সেনাবাহিনীকে তাদের সাফল্য, ত্যাগ ও সেবার প্রতি স্বীকৃতি জানাতেই তার এ আকস্মিক সফর।
বাগদাদের বিমানঘাঁটিতে নেমেই সেনাদের কাজের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। মার্কিন বাহিনীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আইএস এখন পরাস্ত হবার পথে। তাদের কথিত খিলাফত বিলুপ্ত হয়েছে। তাই এখন সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হবে একটি সঠিক পদক্ষেপ।
