মঙ্গলবার   ২৮ জুলাই ২০২৬   শ্রাবণ ১২ ১৪৩৩   ১২ সফর ১৪৪৮

জাকাত কী?

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩৩ এএম, ১৯ মে ২০১৯ রোববার

জাকাত ইসলাম ধর্মের পাচটি ভিত্তিগুলোর একটি। যা ইসলামের মৌলিক ইবাদতসমূহের মধ্যে অন্যতম ইবাদত। 

প্রত্যেক মুসলমানকে যেমন জাকাত ফরজ হওয়ার বিষয় সম্পর্কে বিশ্বাস করতে হবে, ঠিক তেমনিভাবে যার ওপর জাকাত ফরজ তাকে তা নিয়মিত পরিশোধও করতে হবে।

জাকাত বলতে বুঝায়:
জাকাতের শাব্দিক অর্থ- পবিত্রতা, বৃদ্ধি, পরিশুদ্ধি,বরকত। কারণ যিনি জাকাত প্রদান করবেন, তার সম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে উহা বালা-মুছিবত থেকে রক্ষা পাবে। 

ইবনে তাইমিয়া হতে বর্ণিত, ‘যাকাতপ্রদানকারীর মন পবিত্র হয় এবং তার সম্পদে বরকত হয় ও বৃদ্ধি পায়।

পবিত্র কোরআনে জাকাত সম্পর্কে বলা হয়েছে,

خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلاَتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ وَاللّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

‘তাদের মালামাল থেকে জাকাত গ্রহণ কর যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পার এর মাধ্যমে। আর তুমি তাদের জন্য দোয়া কর, নিঃসন্দেহে তোমার দোয়া তাদের জন্য সান্ত্বনা স্বরুপ। বস্তুতঃ আল্লাহ সবকিছুই শুনেন, জানেন। (সূরা: তাওবা, আয়াত: ১০৩)

জাকাত ফরজ হওয়ার দলীল:

وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاء وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ

‘তাদের এ মর্মে আদেশ করা হয়েছে যে, তারা নিবিষ্ট মনে একান্তভাবে শুধুমাত্র আল্লাহর এবাদত করবে, যথাযথভাবে সালাত আদায় করবে, জাকাত প্রদান করবে, আর এটাই হলো সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। ’ (সূরা: বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৫)

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ وَأَقَامُواْ الصَّلاَةَ وَآتَوُاْ الزَّكَاةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ

‘যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে,সৎ কাজ করেছে, নামাজ প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং জাকাত প্রদান করেছে, তাদের জন্য পুরস্কার তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নাই এবং তারা দুঃখিত হবে না।’ (সূরা: বাক্বারা, আয়াত: ২৭৭)

পবিত্র কোরআনের ৩৪ স্থানে নামাজের পাশাপাশি জাকাত প্রদানের হুকুম দেয়া হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ وَارْكَعُواْ مَعَ الرَّاكِعِينَ

‘তোমরা নামাজ কায়েম কর, জাকাত প্রদান কর এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু কর।’ (সূরা: বাক্বারা, আয়াত: ৪৩)

আবি আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে ওমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,আমি নবী (সা.) থেকে শুনেছি যে, ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নাই এবং মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, জাকাত দেয়া, শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে হজ করা এবং রমজান মাসে রোজা রাখা।’ (বুখারী ও মুসলিম)