ভারতের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ব্যাংকের নতুন গভর্নর শক্তিকান্ত
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৮:১৩ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার
আগামী তিন বছরের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)-এর নতুন গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন শক্তিকান্ত দাস।
মঙ্গলবার নতুন গভর্নর হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। ফলে পূর্ববর্তী গভর্নর উরজিত প্যাটেলের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। খবর বিবিসি’র।
তবে তার এ নিয়োগ নিয়ে এরইমধ্যে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে শক্তিকান্তকে মানতে পারছেন না অনেকেই। এজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে নিয়ে ট্রল করা হচ্ছে।
গভর্নর হিসেবে শক্তিকান্তকে নিয়ে সমালোচনার বড় কারণ হলো- অর্থনীতি সম্পর্কিত কোনো ডিগ্রিই নেই তার। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ছাড়াও আইআইএম বেঙ্গালুরু থেকে ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট নিয়েও পড়াশুনা করেছেন তিনি।
যদিও সমালোচনাকারীরা তার ইতিহাসে পড়াশোনার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে এবং তা নিয়ে মজা করছে। তারা বলছে, ‘মোদিনমিকস’ বা মোদি অর্থনীতির কারণেই নাকি শক্তিকান্ত এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
জানা যায়, ২০১৬ সালে নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে মোদি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন শক্তিকান্ত। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ডেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন অর্থসচিবও।
গেল সোমবার ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদ্যবিদায়ী গভর্নর উরজিত প্যাটেল। ধারণা করা হয়, অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনায় মোদি সরকারের নাক গলানোর রাশ টেনে ধরতে চাওয়ায় চাপের মুখে তাকে সরে যেতে হয়েছে।
এদিকে ইকোনমিক টাইমস–এর খবরে বলা হয়েছে, টানা দুই মেয়াদের পর আবার সরকারের প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তাকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়া হল। এর আগে নিয়োগ পাওয়া উরজিত প্যাটেল একজন অর্থনীতিবিদ ছিলেন। উরজিতের পূর্বসূরি রঘুরাম রাজনও ছিলেন অর্থনীতিবিদ।
লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে অর্থনৈতিক খাতে লোকরঞ্জনবাদী পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছে মোদির সরকার। ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা নিতেই ক্ষুদ্র ব্যবসায় সরকারি ব্যাংকের ঋণ বাড়ানোর কথা বলছে সরকার। একই সঙ্গে দরিদ্রদের হেলথ ইনস্যুরেন্সের সুবিধা নেয়ার প্রকল্পে অর্থ জোগাতে রিজার্ভ মানি ব্যবহার করতে চান মোদি। আর এগুলো নিশ্চিত করতে গিয়েই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিরোধ বাঁধে সরকারের। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই দ্বন্দ্বের জেরেই পদত্যাগ করেছেন উরজিত।
