শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রোহিঙ্গাদের এক প্রজন্ম
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৮:০১ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার
শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া মিয়ানমার ও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা পুড়ো একটি প্রজন্মকে হারাতে বসেছে রোহিঙ্গার জনগোষ্ঠি। নতুন একটি প্রতিবেদনে এমন হুশিয়ারি দিয়েছে।
২০১২ সালে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর রাখাইনে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গা শিশু ও যুবকদের চরম বিধিনিষেধ মেনে চলতে হচ্ছে। যে কারণে তারা বিদ্যালয়ে যাওয়ারও সুযোগ পাচ্ছে না। - খবর আল-জাজিরা’র
শিশুদের সেখানে বিচ্ছিন্ন স্থানে রাখা হচ্ছে। এতে মূলধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। বয়স্ক শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন না। যুক্তরাজ্যে বার্মিজ রোহিঙ্গা সংগঠন (বিআরওইউকে) বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
গেল বছরের আগস্টের শেষ দিকে রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ভয়াবহ অভিযান থেকে বাঁচতে ৭ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া আগে থেকেই আরো ৪ লক্ষ রোহিঙ্গা এখানে অবস্থান করছেন।
কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি তাদের জন্য স্থায়ী বিদ্যালয় ভবনের মতো যে কোনো অবকাঠামো নির্মাণেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা পরিচালিত অস্থায়ী বিদ্যালয়ে তাদের শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
ব্রিটিশ রোহিঙ্গা সংগঠনের প্রধান টুন খিন বলেন, এখন সবার আগে রোহিঙ্গাদের শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে, যাতে তারা নিজ সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দিতে পারেন। কিন্তু চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে তাদের জন্য শিক্ষাগ্রহণ একেবারে অসম্ভব।
ফলে শিক্ষার অভাবে একটি প্রজন্ম আমাদের মধ্য থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে, বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোর্টিফাই রাইটস’ এর কর্মকর্তা কুইনলে বলেন, রাখাইন রাজ্যে জাতিগত বিভাজনের ভেতর বছরের পর বছর ধরে বৈষম্য সহ্য করে শিক্ষক সংগ্রহ তাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফোর্টিফাই রাইটস জানায়, গত বছরের আগস্টের শুরুতে যেসব শিক্ষক এসেছেন, তাদের ২১ শতাংশের শিক্ষা মাধ্যমিক স্তর ছাড়িয়ে। রাখাইনে বিদ্যমান বিভাজনের অর্থ হচ্ছে-রোহিঙ্গা শিক্ষকদের ভ্রমণের অনুমতি নেই। ফলে তারা সরকার পরিচালিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও যেতে পারেন না।
