রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২   ২৬ রমজান ১৪৪৭

ইন্দোনেশিয়ায় কেন ঘন ঘন সুনামি?

নিউজ ডেস্ক

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪১ পিএম, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার

ইন্দোনেশিয়ায় কেন ঘন ঘন সুনামি?

পৃথিবীর অন্যতম দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে কেন এতো অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘন ঘন সুনামি হয়। এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে মনে দানা বাঁধে হাজারো প্রশ্ন, কারণ, উদ্বেগ ও রহস্য। তবে দেশটির সুন্দা প্রণালীর উপকূলবর্তী শহরগুলোতে যে বিধ্বংসী সুনামি রাতের বেলা আঘাত হেনেছে, কর্মকর্তারা বলছেন এর কারণ খুব সম্ভবত আনাক ক্র্যাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের পর সমুদ্রের তলদেশে সৃষ্ট ভূমিধ্বস।

এই সুন্দা প্রণালী জাভা আর সুমাত্রা দ্বীপের মাঝখানে এবং জাভা সাগর এই প্রণালীর মাধ্যমে যুক্ত ভারত মহাসাগরের সঙ্গে। এই সুনামিতে প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ, ধ্বংস হয়ে গেছে অনেক ঘরবাড়ি, উপড়ে গেছে গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, ভেসে গেছে গাড়ি এবং মানুষ।

কীভাবে এই সুনামির উৎপত্তি?

অগ্ন্যুৎপাত বিশেষজ্ঞ জেস ফিনিক্স বিবিসিকে বলেছেন, যখন আগ্নেয়গিরি থেকে উদগীরণ শুরু হয়, তখন উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূ-গর্ভ থেকে ঠেলে ওপরে উঠে। এর ফলে অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা পাথরগুলো ভাঙতে শুরু করে, এতে ঘটতে পারে শক্তিশালী ভূমিধ্বস।

আনাক ক্র্যাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির কিছু অংশ রয়েছে সাগরের নিচে।

 

তিনি বলছেন, এ কারণে এক্ষেত্রে ভূমিধ্বস হয়েছে সমুদ্রের তলদেশে। ফলে সাগরে তৈরি হয়েছে প্রবল জলোচ্ছ্বাস। এর থেকেই সুন্দা প্রণালীতে সুনামি সৃষ্টি সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আনাক ক্র্যাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিকে সক্রিয় হতে দেখা গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার জিওলজিক্যাল সংস্থা বলছে, শুক্রবার রাতে ওই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে দুই মিনিট ১২ সেকেন্ড ধরে। এর ফলে পাহাড়ের মাথায় ৪০০ মিটার উপর পর্যন্ত তৈরি হয়েছিল ছাইয়ের মেঘ। সুনামি আঘাত হানার পর প্রাণ বাঁচাতে পানডেগলাং শহরের বাসিন্দারা আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় মসজিদে।

ইন্দোনেশিয়া কি সুনামি-প্রবণ?

ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ দ্বীপটি রিং অফ ফায়ারের (অগ্নি-বলয়) মধ্যে অবস্থিত। গোটা প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা যে বলয়ের মধ্যে, তাতে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত ঘটার আশঙ্কা যে বৃত্তের মধ্যে, তাকে বলা হয় অগ্নি বলয় বা রিং অফ ফায়ার।

এই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়াসি দ্বীপে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছিল দু’হাজারেরও বেশি মানুষ। ওই ভূমিকম্পের কারণেও উপকূলীয় পালু শহরকে গ্রাস করেছিল এক বিধ্বংসী সুনামি।

 

এর আগে ২০০৪ সালে ২৬ ডিসেম্বর, ভারত মহাসাগরে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট একের পর এক প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ১৪টি দেশে প্রাণ হারিয়েছিল প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার মানুষ। এদের অধিকাংশই মারা যায় ইন্দোনেশিয়ায়।

তবে অগ্ন্যুৎপাতের কারণে এ ধরনের সুনামির নজির তুলনামূলক হিসাবে কম।

ক্র্যাকাতোয়া- কতটা বিপদজনক?

আনাক ক্র্যাকাতোয়া নতুন দ্বীপ। ক্র্যাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির উদগীরণ থেকে এর জন্ম ১৯২৭ সালে।

১৮৮৩ সালের আগস্ট মাসে ক্র্যাকাতোয়ায় যে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল, তা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হিসাবে নথিভুক্ত হয়ে আছে।

কী ঘটেছিল সেই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে?

আঘাত হেনেছিল বিশাল সুনামি, যেখানে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১৩৫ ফুট (৪১ মিটার)। যাতে প্রাণ হারিয়েছিল ৩০ হাজার মানুষ। এতে তপ্ত ছাইয়ে প্রাণ হারিয়েছিল আরো হাজার হাজার মানুষ।

ওই উদগীরণের তেজ ছিল ২০০ মেগাটন ওজনের টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য, যা ১৯৪৫ সালে হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার শক্তির তুলনায় ১৩ হাজার গুন বেশি।

 

হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ওই উদগীরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। ওই অগ্ন্যুৎপাতের পরের বছর বিশ্বের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি কমে গিয়েছিল। এছাড়া আগ্নেয়গিরির দ্বীপটি পুরো নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। সূত্র: বিবিসি।