তাপদাহে খুলনায় হাঁসফাঁস
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ১২:৫৫ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৯ শুক্রবার
কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপদাহে খুলনায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি। দিনে রাতে তীব্র গরমে ওষ্ঠাগত জনজীবন। ব্যাঘাত ঘটছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।
দিন বাড়ার সঙ্গে সূর্যের প্রখরতায় প্রচণ্ড তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় খুব বেশি প্রয়োজন না পড়লে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না মানুষ।
তবে গরমের কারণে কর্মজীবী মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। অতিরিক্ত ঘামে পানিশূন্যতায় একটুতেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু ও বয়স্ক মানুষ।
নগরীর শান্তিধাম মোড়ের বাসিন্দা এম রহমান বলেন, বৈশাখের তাপদাহে ফ্যানের বাতাসেও কাজ হচ্ছে না। দিনের ন্যায় রাতেও তীব্র গরম থাকায় ঘুমানো যাচ্ছে না। তার সঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিং ও বিভ্রাট জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
প্রচণ্ড তাপদাহের ফলে প্রতি দিনের কাজকর্মে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। গরমে একটু প্রশান্তির খোঁজে কেউ বা আশ্রয় নিচ্ছেন গাছের নিচে, আবার কেউ বা বৈদ্যুতিক পাখার নিচে। তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানগুলোতে ঠাণ্ডা পানীয় পান করা বেড়ে গেছে। এছাড়া অনেককে ডাবের পানি পান করতে দেখা গেছে। তবে প্রচণ্ড তাপদাহে দুপুরে দিনমজুরদের সড়কের পাশে ভ্রাম্যমাণ শরবতের দোকানগুলো থেকে লেবুর ঠাণ্ডা শরবত দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বর্তমানে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম আরো বেশি অসহনীয় হয়ে উঠছে। চলতি মাস থেকে পরবর্তী মাস পর্যন্ত চলতে পারে তাপদাহ। যা ভাঙতে পারে গত বছরের রেকর্ড। গত বছর খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই সঙ্গে খুলনাকে বৈরীপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়তে হতে পারে।
দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টি হয়েছে, যা উচ্চ চাপ বলয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করার ফলে পশ্চিমা বায়ু প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। খুলনা বিভাগ ও পাশের এলাকার তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করবে। শুক্রবার দুপুর ১২টায় খুলনাঞ্চলে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করেছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা ও আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, অবকাঠামোগত কারণে আমাদের সহনশীল মাত্রা কমে যাচ্ছে। ফলে একটু তাপ বাড়লেই মনে হয়, অনেক তাপ বেড়েছে। চলমান এ দাবদাহ আরো দুদিন চলতে পারে। ২৮ বা ২৯ এপ্রিল নাগাদ বৃষ্টিতে দাবদাহ কিছুটা শিথিল হতে পারে।
এদিকে বৈশাখের খরতাপে খুলনার অধিকাংশ এলাকায় পানি সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গ্রামের অধিকাংশ পুকুর ও জলাশয় শুকিয়ে গেছে। শহরের ওয়াসার সরবরাহ লাইনে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের বেলা পর্যাপ্ত পানি উঠছে না গভীর নলকূপেও। বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত মোটরগুলোও ঠিকমতো ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে। এতে জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ছে।
