ইউরোপে হুমকির মুখে স্বাধীন সাংবাদিকতা
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৮:২১ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৯ বৃহস্পতিবার

মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ইউরোপে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ইউরোপে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হুমকি ও নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতেও গণমাধ্যমের প্রতি চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ প্রকাশিত ২০১৮-১৯ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস কর্তৃক প্রকাশিত ২০১৮-২০১৯’, বিশ্বব্যাপী ১৮০ দেশের গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতাবিষয়ক সূচকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইউরোপে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত ও নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটছে। এই বছরে গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতাবিষয়ক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০, এর আগে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৬।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে যেসব দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা করার পরিবেশ ছিল, সেই পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সাংবাদিক ও ব্লগারদের ওপর ঘৃণা, হত্যাসহ নির্যাতনের ঘটনা আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইউরোপে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত ও নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটছে। জার্মানিতেও সাংবাদিকদের প্রতি হামলার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ মুখপাত্র কাটিয়া গ্লোগার জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে নানা সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাদের কারণে মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের ডানপন্থী কট্টরবাদী বা জাতীয়তাবাদী সরকারগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র রাজনৈতিক নেতারাও সাংবাদিকদের প্রতি ঘৃণা ছড়াচ্ছেন।
মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতায় ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া ও জার্মানিতে গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। অস্ট্রিয়াতে কট্টরবাদী সরকারের ক্ষমতায়নের পর থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর প্রবল হুমকি আসছে। স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতার সূচকে দেশটির অবস্থান ৫ থেকে বেড়ে ১৬ তে পৌঁছেছে। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিক প্রায়ই দেশটির সাংবাদিকদের ‘মিথ্যাবাদী’ ও বিদেশিদের ‘চর’ বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। দেশটির সূচক ৬৬ থেকে ৯০-তে ঠেকেছে। স্লোভাকিয়ার সরকারপ্রধান রবার্ট ফিকো সব সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন এবং তাঁদের দেশটির ‘শত্রু’ বলে বিবেচনা করেন। ২০১৮ সালে স্লোভাকিয়া সরকারের সমালোচনা করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করলে প্রতিবেদক ইয়ান কুশয়াক ও তাঁর প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সূচকে দেশটির অবস্থান ১৭ থেকে বেড়ে ৩৫-তে পৌঁছেছে। জার্মানির সূচক ১৩ থেকে বেড়ে ১৫ হয়েছে। জার্মানির স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতার বিষয়ে ২২ ঘটনা বিবেচনায় এসেছে, বিশেষ করে দেশটির পূর্বাঞ্চলে কট্টর নব্য নাৎসিরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিনিয়ত সাংবাদিকদের জনগণের শত্রু বলে আখ্যা দেওয়ার কারণে সাংবাদিকেরা হত্যা ও বোমা হামলার হুমকি পাচ্ছেন। দেশটির সূচক ৪৩ থেকে বেড়ে ৪৮ হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপের স্ক্যান্ডেনেভিয়ার দেশ নরওয়ে পরপর তিন বছর মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার সূচকে ১ নম্বরে রয়েছে। ওই একই অঞ্চলের দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেন দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস প্রকাশিত বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতা বিষয়ক সূচকের শেষ দুটি দেশ হলো উত্তর কোরিয়া ও তুর্কমিনিস্তান।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বিশ্বের ১৮০ দেশের গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার বিষয়ে সারা বিশ্বের মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক, বিজ্ঞানীদের মতো বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সূচক তৈরি করে। ছয়টি পৃথক বিভাগে বিভক্ত হয়ে ৭১টি প্রশ্নের মাধ্যমে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার বিষয়ে প্রতিবেদন ও সূচক তৈরি করা হয়।