তহবিলের অভাবে মার্কিন প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৩:১৪ এএম, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাজেট নিয়ে হোয়াইট হাউজ ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এখনো সমঝোতা হয়নি। ফলে দ্বিতীয় দিনের মতো রোববারও দেশটির সরকারি কার্যক্রমে আংশিক অচলাবস্থা বিরাজ করছিল। এ পরিস্থিতি বড়দিনের ছুটি পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি করা ৫০০ কোটি ডলার তহবিল অনুমোদনকে ঘিরে দুই পক্ষের মতানৈক্য চলছে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ।
শাটডাউনের কারণে শনিবার মধ্যরাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, বিচার এবং কৃষি বিভাগে অর্থায়নের মেয়াদ শনিবার মধ্যরাতে শেষ হওয়ায় এগুলোর কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব বিভাগ সচল হবে না। প্রায় আট লাখ সরকারি কর্মী শাটডাউনে প্রভাবিত হচ্ছে, এদের মধ্যে চার লাখ কর্মীকে বেতন ছাড়াই কাজ করতে হবে এবং সাময়িক ছুটিতে যেতে হতে পারে ৩ লাখ ৮০ হাজার কর্মীকে। সরকারি কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে বিনা বেতনে যারা কাজ করছেন, তাদের পাওনা পরিশোধ করে দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
বড়দিনকে সামনে রেখে ছুটির মৌসুম শুরু হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের হিড়িক পড়েছে, এ অবস্থায় ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দুই-তৃতীয়াংশ বা ৫০ হাজারের বেশি কর্মকর্তাকে বেতন ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ নিরাপত্তা কার্যক্রম এখনো সচল রয়েছে। এছাড়া আইন প্রয়োগকারী, বর্ডার প্যাট্রোল, ডাক বিভাগ এবং উড়োজাহাজ চলাচল চালু রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে তিনি বড়দিনে ফ্লোরিডা যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন এবং ওয়াশিংটনেই অবস্থান করবেন। টুইটারে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি হোয়াইট হাউজেই থাকব, কঠোর পরিশ্রম করব। অতি প্রয়োজনীয় বর্ডার সিকিউরিটির জন্য আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে আলোচনা করছি।’
মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এবং এটি তার অবৈধ অভিবাসী হ্রাস পরিকল্পনারও একটি অংশ।
অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককোনেল বৃহস্পতিবার
পর্যন্ত সিনেটরদের নিজ বাড়িতেই অবস্থান করতে বলেছেন। কেবল চুক্তি হলেই তাদের ফেরত আসতে বলা হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে সিনেট ডেমোক্র্যাটরাও তাদের অবস্থান খুব একটা পরিবর্তন করবে বলে মনে হচ্ছে না।
হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটে গত শনিবার অধিবেশন অনুষ্ঠিত হলেও কোনো চুক্তি ছাড়াই তা সমাপ্ত হয়। ধারণা করা হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ ইস্যুতে কোনো ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মতের মিল না হওয়ার সূত্র ধরে গত সপ্তাহে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস পদত্যাগ করেন। এ ধাক্কা সামলে না উঠতেই সরকারি কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ায় চরম সমালোচনা হচ্ছে। চলমান অনিশ্চয়তায় শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটে চরম দরপতনের মধ্য দিয়ে এক দশকের সবচেয়ে মন্দ সপ্তাহের সমাপ্তি ঘটে।
সাউথ ভার্জিনিয়ার অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায় অধ্যাপক জেফ্রি গ্রিগন শাটডাউন প্রসঙ্গে বলেন, রাজনীতিবিদদের ‘শিশুর মতো আচরণ বন্ধ করতে হবে।’ এবং তাদের যে জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে সেভাবে কাজ করতে হবে।
এদিকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল না থাকায় ন্যাশনাল মলে থাকা দর্শনার্থীদের বিশ্রামকক্ষ ছাড়াও হোয়াইট হাউজ ভিজিটর সেন্টার, ন্যাশনাল ক্রিসমাস ট্রি এবং ন্যাশনাল আর্কাইভের মতো দর্শনীয় স্থানগুলো বন্ধ ছিল। এছাড়া কিছু জাতীয় উদ্যান পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এ নিয়ে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয়বারের মতো আংশিক শাটডাউনের ঘটনা ঘটল। আইনসভার উভয়কক্ষে সরকারি দল রিপাবলিকানের নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে আগামী জানুয়ারিতে আইনসভার নিম্নকক্ষ বিরোধী দল ডেমোক্রেটিকদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হবে।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের প্রধান চাক শ্যুমার এবং হাউজে ন্যান্সি পেলোসি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত শাটডাউন চললে ৩ জানুয়ারি আইনসভার নিম্নকক্ষে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তারা সরকারি কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে একটি আইন পাস করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম শাটডাউনটি ঘটেছিল ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে। মেডিকেয়ার তহবিলায়ন নিয়ে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের মতানৈক্যের কারণে সে সময় সরকারি কার্যক্রম ২১ দিন বন্ধ ছিল। এরপর ২০১৩ সালের অক্টোবরে ১৬ দিনের শাটডাউনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ক্ষতি হয় বলে জানিয়েছিল স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর’স।
