মেক্সিকান সীমান্তে দেয়াল নির্মান :বরাদ্ধ না পেয়ে অচল যুক্তরাষ্ট্র
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৪:২৪ পিএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮ রোববার
বড়দিনের মাত্র কয়েকটা দিন বাকি, কিন্তু ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত কোনো জিনিস নিয়ে মাথা ঘামানোর ধারেকাছে তো নেইই, নতুন বছরের আগ পর্যন্ত এই অবস্থা থেকে পিছু হটার ও কোনো নাম নেই। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থের দাবি পূরণ নিয়ে কোনো সুরাহায় পৌঁছতে না পারায় ও সরকারের খরচের বিল পাস ছাড়াই কংগ্রেস স্থগিত করায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার অচল হতে যাচ্ছে।
মার্কিন সরকারের অচলাবস্থার শুরু হয়েছে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে, শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে শেষ মিনিটের আশা সমাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে মার্কিন সংসদ হাউজ এবং সিনেটের কার্যক্রম মুলতুবী হলে এমন অবস্থায় সৃষ্টি হয়। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী দেশটির সবচেয়ে বড় উৎসবের আগে এমন অচলাবস্থা নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, 'নিউ ইয়র্ক টাইমস' এই অচলাবস্থার প্রতি মুহূর্তের সংবাদ সরাসরি জানাচ্ছে।
মার্কিন এই গণমাধ্যমটি জানাচ্ছে যে, কৃষি, বাণিজ্য ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগসহ বেশ কয়েকটি ফেডারেল সংস্থার জন্য অর্থায়ন সংকট দেখা দেয়। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণার সময় অঙ্গীকার করা মেক্সিকো সীমান্তের প্রাচীরটি নিয়ে যুদ্ধের চরম মুহূর্তে রয়েছে। তার প্রেসিডেন্সির দুই বছর পার হলেও দেয়ালটি নিয়ে আশা পূরণ হয়নি।
মার্কিন সরকারকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যয় এবং ট্রাম্পের বহুলাকাঙ্খিত মেক্সিকো দেয়াল নির্মানের জন্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাউজের কাছে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার চেয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস বিশেষ করে ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতাররা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবির কাছে নতি স্বীকার করতে রাজি নয়। তারা বলছেন, মার্কিন জনগণের করের টাকায় ট্রাম্পকে দেয়াল নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের ব্যয় বাজেটের একটি বিল অনুমোদন করেছিল। কিন্তু ওই বিলে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় তাতে সই করতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প। ওই বাজেট বিলে দেয়াল নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত ৫৭০ কোটি ডলারের দাবি করেছিলেন ট্রাম্প।
এর আগেও একই বছর আরও দুবার এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল তবে চলমান অচলাবস্থার কারণে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ফরেস্ট বিভাগের কয়েক লাখ কর্মী বেকার হয়ে পড়বে। গত ৪০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম এক বছরে তিনবার সরকারের অচলের ঘটনা ঘটল। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হয়। সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও খুব একটা স্বস্তিতে নেই তারা।
অচলাবস্থার দায় ডেমোক্রেটদের ওপরেই চাপালেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শুক্রবার শাটডাউনের আগে তিনি বলেন, এই অচলাবস্থা কার্যকর হবে কি না তা পুরোপুরি ডেমোক্রেটদের ওপর নির্ভর করছে। গত ১১ ডিসেম্বর ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য সরকার অচল করে দিতে পারলে গর্ববোধ করবেন। কারণ এই দেশের মানুষজন অপরাধী এবং সমস্যাগ্রস্ত মানুষ এবং মাদকের প্রবেশ চায় না। তাই আমি এর দায়িত্ব (দেয়াল নির্মাণের) নেব। আমি সরকার অচল করে দেব।
ডেমোক্রেটরা অসহযোগিতা করলে কেন্দ্রীয় সরকারের অচলাবস্থা 'দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে' বলেও সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে অনুমোদন পাওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য বাজেট বিলটিকে সিনেটে পাঠানো হবে। সেখানে ওই বিল পাসের জন্য ন্যুনতম ৬০ ভোট পেতে হবে। কিন্তু সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ৫১। তাই বাজেট অনুমোদনে ডেমোক্রেট সিনেটরদেরও সায় লাগবে।
