মঙ্গলবার   ১০ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৬ ১৪৩২   ২১ রমজান ১৪৪৭

সন্ত্রাসীদের কণ্ঠস্বর বন্ধে মিডিয়ার ভূমিকা চান নীল বাসু

আমাদের নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১২:০৭ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৯ শনিবার

বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবেদনে ‘ক্ষতিকর’ বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করে সন্ত্রাসীদের সাহায্য বন্ধ করতে ব্রিটিশ মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কাউন্টার টেরোরিজম অফিসার।

 

কাউন্টার টেরোরিজম অফিসার নীল বাসু মনে করেন, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা কিভাবে প্রচার করা উচিৎ তা নিয়ে ‘বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন সংলাপের’ দরকার ছিল।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বুধবার জানায়, ব্রিটেনের কয়েকটি সংবাদপত্র ওয়েবসাইট সন্ত্রাসী হামলাকারীর তোলা গুলিবর্ষণের ভিডিও এবং তার ইশতেহার প্রচার করেছে।

বাসু মনে করেন, এক্ষেত্রে ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার’ দোহাই দেয়াটা ভুল।

গত ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামায আদায়রত মুসলিমদের ওপর হামলা চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যা করে অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেনটন টারান্ট। নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে এটাই ভয়াবহতম হামলার ঘটনা। এতে আহত হন আরও কয়েক ডজন মানুষ।

ওই সন্ত্রাসী সন্ত্রাসী চালানোর সময়ই বন্দুকধারী তার হত্যাযজ্ঞের ভিডিও লাইভ সম্প্রচার করেন ফেসবুকে।

ক্রাইস্টচার্চে পুলিশ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের ওই ভিডিও বা ব্রেনটনের ইশতেহার শেয়ার না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

ইউটিউব ও ফেসবুক ওই ভিডিও সরিয়ে ফেলার জন্য তৎপর হলেও বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কয়েকটি খবরের ওয়েবসাইটের প্রথম পাতায় এগুলো ফলাও করে প্রচার করা হয়।

এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের ওয়েবসাইটও রয়েছে, যারা ঘটনার স্টিল ছবি এবং জিআইএফ এমনকি পুরো ভিডিও প্রচার করেছে।

ব্রিটেনের দ্য সান, ডেইলি মেইল এবং ডেইলি মিরর হত্যাযজ্ঞের ভিডিও এডিট করে পোস্ট করে অনলাইনে। তবে, অল্প সময়ের মধ্যেই তারা এগুলো সরিয়ে নেয়।

দ্য মিররের সম্পাদক লয়েড এম্বলি পরে এজন্য ক্ষমা চান। এক টুইটে তিনি বলেন, ওই ভিডিও প্রচার করা উচিৎ হয়নি। কারণ, সন্ত্রাসীদের প্রোপাগান্ডা প্রচার করা তাদের নীতিতে নেই।

হামলাকারীর বিভিন্ন জিনিস প্রচার করায় অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাদের বক্তব্য, সন্ত্রাসী ঠিক এটাই চেয়েছিল।

মেইল অনলাইন সন্ত্রাসীর ডকুমেন্ট তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলে জানিয়েছে, এটা তাদের ভুল ছিল।

এক খোলা চিঠিতে সহকারী কমিশনার বাসু বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের খবর কিভাবে প্রচার করলে সেটা সন্ত্রাসীদের সহায়তা করবে না, সে বিষয়ে বিচক্ষণ সংলাপের সময় এসেছে।’

তিনি বলেন, যেসব মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো উগ্রপন্থীদের বিভিন্ন কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে না ফেলায় সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর সমালোচনা করেছে, তারাই কথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএসের ‘সেন্সরবিহীন প্রোপাগান্ডা’ বা উম্মত্ত খুনির ‘ইশতেহার’ প্রকাশ করেছে, যা সহজে ডাউনলোড করা যায়।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন ইতোমধ্যেই প্রতিজ্ঞা করেছেন, তিনি হামলায় হতাহতদের বেদনা নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু, কখনো ওই সন্ত্রাসীর নাম মুখে আনবেন না। কারণ, হামলাকারী যে ‘কুখ্যাতি’ অর্জন করতে চেয়েছিল, তা অর্জনে তিনি তাকে সাহায্য করতে চান না।

তার সতীর্থ রাজনীতিকদেরও জেসিন্ডা একই কাজ করার আহ্বান জানান।